জ্বালানি সংকট রুখতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ! এবার পেট্রোল পাম্পেই মিলবে কেরোসিন

Spread the news

৩০ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশে বিকল্প জ্বালানির জোগান সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ পরিস্থিতির আবহে ভারতে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির সম্ভাব্য সংকট এড়াতে এবার সরাসরি পেট্রোল পাম্প থেকেই কেরোসিন (Kerosene at Petrol Pump) সরবরাহের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এই বিশেষ সুবিধা মিলবে।

দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে পেট্রোপণ্যের নিরাপত্তা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত কঠোর নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এনেছে সরকার। ১৯৩৪ ও ২০০২ সালের পেট্রোলিয়াম আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানি বা আলো জ্বালানোর প্রয়োজনে কেরোসিনের (Kerosene New Rules) কোনো অভাব না ঘটে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলিকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, খুচরো চ্যানেল ও পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে এই সরবরাহ চালানো যাবে। শুধু তাই নয়, রেশন ডিলার বা নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলিতে সর্বোচ্চ ২,৫০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এই জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে এলপিজি (LPG Supply India) আমদানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই আগেভাগেই কেরোসিনকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝেও ভারতের জন্য বড় আশার খবর হলো, ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি ভর্তি জাহাজ— বিডব্লিউ টায়ার এবং বিডব্লিউ এলম— অত্যন্ত নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় ৯৪ হাজার টন এলপিজি নিয়ে জাহাজ দুটি যথাক্রমে মুম্বই ও নিউ মাঙ্গালোর বন্দরের পথে রয়েছে। এর মধ্যে বিডব্লিউ টায়ার আগামী ৩১ মার্চ মুম্বই পৌঁছাবে এবং বিডব্লিউ এলম ১ এপ্রিল নোঙর করবে নিউ মাঙ্গালোরে। সব মিলিয়ে একদিকে যেমন এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে কেরোসিনের জোগান ও মজুত বাড়িয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পথেই হাঁটল মোদি সরকার। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যাতে কোনো সংকটের আঁচ না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই বহুমুখী পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *