ধলাইয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, জয়ের আশায় বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় শিবির

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৯ এপ্রিল : ২০২৬ সালের অসম রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ১২০ নম্বর ধলাই বিধানসভা আসনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলিতে ছিল নজিরবিহীন উৎসাহ, বিশেষ করে নবপ্রজন্মের ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুকূল আবহাওয়াও ভোটদানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, ফলে দিনভর ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেই বহু কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখান। কিছু কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে সাময়িক ত্রুটি দেখা দিলেও দ্রুত তা প্রতিস্থাপন করে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। তবে এই কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পরেও ভোটগ্রহণ চলতে দেখা যায় এবং বিকেল পাঁচটার পরও কিছু ভোটারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফ মোতায়ন করা হয়েছিল এবং বহু কেন্দ্রে তাদের তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ভোটারকেই মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এদিন ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। ১৭৬ নম্বর ভোটকেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ ভোট প্রদান করেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করুন।”

অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অমিয়কান্তি দাশ ২১১ নম্বর ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই প্রত্যেক ভোটারকে নির্ভয়ে ভোট দিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

দিনভর কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনার পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তির সুর শোনা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *