বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ ফেব্রুয়ারি : শিলচরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে শুরু হয় সত্যাগ্রহ আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি। তবে মন্ত্রী কৌশিক রায়ের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এদিন শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চলবে। পরে মন্ত্রীর বার্তা নিয়ে ধলাইয়ের বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস আন্দোলনস্থলে পৌঁছান। সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ার পর অনশন কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। বিধায়ক নিজ হাতে আন্দোলনকারীদের জল পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল—NEP ২০২০ অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার জন্য অবিলম্বে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত গ্রহণ। পাশাপাশি ৩০০টি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষা শিক্ষক পদ সৃষ্টি, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ এবং বিশেষ TET পরীক্ষার আয়োজন। তৃতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে কেন্দ্রীয় OBC তালিকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারির দাবি তোলা হয়।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভা, নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি গণসংগ্রাম পরিষদ। আন্দোলনকারীদের সাফ বক্তব্য—ভাষা বাঁচলে পরিচয় বাঁচবে, আর পরিচয়ের প্রশ্নে কোনো আপস নয়। এখন দেখার বিষয়, সরকার তাঁদের দাবির প্রতি কতটা সাড়া দেয়, নাকি আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র আকার



