দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জানুয়ারি : স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী এবং শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তিনদিনব্যাপী নানান সনাতনী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাধু-সন্ত, পন্ডিত ও ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো অত্যন্ত উদ্দীপক ছিল। প্রায় পাঁচশতাধিক ভক্তের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার শেষদিনে ব্রাহ্মমুহুর্তে মঙ্গলারতি, সকাল ৮টায় চন্ডীপাঠ, ৯টায় গুরু পূজা, ১০টায় শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ (সপ্তশতী হোম) এবং রাত ১০টায় শান্তির বাণী পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ ও কাশী থেকে আগত পন্ডিত রাজু আরিয়া। সহযোগিতায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত মিত্র, সহ-সভাপতি রামু দেবনাথ, সম্পাদক বিপ্লব কুমার দে, তপন দে, দিলীপ দাস, ছোটন মিত্র, রাকেশ মিত্র, সুমন মিত্র, কাবুল মিত্র, নিউটন মিত্র, অশোক চৌধুরী, মিন্টু দে, বিউটি দে, শিখা দে, শিপ্রা দে সহ অন্যান্যরা।
বক্তব্যে শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ বলেন, “আদি শঙ্করাচার্য হিন্দু ধর্মকে সংগঠিত রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর পদযাত্রা বৈদিক জীবনব্যবস্থা প্রচার করে ধর্মের শক্তিকেন্দ্র গড়ে তুলেছে।” স্বামী সত্যানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “সনাতন ধর্ম সত্যানুসন্ধান, নৈতিকতা ও আত্মউন্নতির পূর্ণাঙ্গ পথ।”
স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ গুরুর গুণ বর্ণনা করে বলেন, “প্রকৃত গুরু সত্যের মার্গ দেখান, যেমন ছিলেন শ্রীমৎ জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ।” রামেশ্বরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ বলেন, “সনাতন ধর্মে ধর্মসেবা মানে নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও জীবসেবা।”
গৌরাঙ্গ রায় বলেন, “সনাতন ধর্ম ভারতকে একত্রিত করেছে; এর নীতি যুক্তিভিত্তিক ও আধুনিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি সোমবার সকালে মাঙ্গলিক পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ২০ জানুয়ারি ব্রহ্মমুহুর্তে মঙ্গলারতি দিয়ে দিন শুরু হয়। সকাল ৭টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠ, ১০টায় মহারুদ্রাভিষেক, ১১টায় গুরু পূজা, সাধু ভাণ্ডারা, দুঃস্থদের বস্ত্র দান এবং সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় সনাতন ধর্ম সম্মেলনে মহারাজবৃন্দের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দক্ষিণ আসাম প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক গৌরাঙ্গ রায় ও প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ পালকে উত্তরীয় ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।



