বরাক তরঙ্গ, ১২ ফেব্রুয়ারি : আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অসম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এর প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একজন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, বিজেপি দলকে প্রায়ই বাঙালিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্বের প্রশংসা ও সম্মান জানাতে দেখা যায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপি দলের উন্মাদনা উল্লেখযোগ্য। রবীন্দ্রনাথকে প্রায়ই তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এর বিপরীতে উত্তর পূর্ব তথা অসমে বাঙালিদের অনুন্নয়ন, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিরন্তর অবহেলা এসব নিয়ে রাজ্য তথা কেন্দ্রের নেতাদের নীরব ভূমিকা রহস্যজনক।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে কোন একজন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তির রেওয়াজ ছিল। অরুনকুমার চন্দ, ময়ীনুল হক চৌধুরী, রসিদা হক চৌধুরী, সন্তোষমোহন দেব, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ সহ অনেকে এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তিনি বলেন, এর একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যখন ছিন্নমূল উদ্বাস্তুরা বৃহৎ সংখ্যায় এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন তখন তাঁদের তৎকালীন দূরাবস্থার সমাধানে কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের একটি অলিখিত চুক্তি ঠিক হয়েছিল। প্রদীপ দত্তরায় এও বলেন, সেই সময় থেকে এখন অব্দি উত্তর পূর্বের বাঙালিদের সার্বিক আর্থ সামাজিক অবস্থার কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। অথচ গত একদশক ধরে এই অঞ্চলের কোন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাই দেওয়া হয়নি। তাই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিন্তা ভাবনা করার আহ্বান জানায় বিডিএফ। তিনি বলেন বরাক উপত্যকা থেকে বর্তমানে তিনজন নির্বাচিত সাংসদ রয়েছেন। তাই তাঁদের থেকে কোন একজনকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।



