উধারবন্দ শালগঙ্গায় কমিউনিটি হলের শিলান্যাস করলেন সাংসদ______
বরাক তরঙ্গ, ১৩ মার্চ : উধারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শালগঙ্গায় মর্লি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের কাছে নির্মীয়মাণ দুর্গা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি হলের শিলান্যাস করলেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। রাজ্যসভার সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে কমিউনিটি হলটি নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে দশ লক্ষ টাকা।
শুক্রবার দিল্লি থেকে ফিরেই সকালে শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রথম যে প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি হল এই কমিনিউটি হল। বিগত দিনে শালগঙ্গায় আসার পর স্থানীয় জনগণ সাংস্কৃতিক বিকাশে একটি কমিনিউটি হলের দাবি জানান, সে কথার উল্লেখ করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, এতে তাঁর কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। কারণ জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন সরকারের মাধ্যম মাত্র। আর উন্নয়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়, সেই অর্থ আসলেই জনগণের। বিভিন্ন ভাবে সরকারের কাছে জমাকৃত ট্যাক্সের টাকা উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।সুচারুভাবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে এলাকা,সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থ বরাদ্দই বড় কথা নয়, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ আবশ্যক। কেননা বহু প্রকল্পের ঘটা করে শিলান্যাস ও উদ্বোধন করা হয়, কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
এদিন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ আরও বলেন, আগামী ১৪ মার্চ শিলচর বাইপাসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২২ হাজার কোটি টাকার হাইস্পিড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সহ একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। গুয়াহাটির সঙ্গে বরাক উপত্যকার সংযোগকারী এই সড়ক বরাদ্দ হয়ে গেল, কিন্তু কেউ কোন দাবি বা আন্দোলন করতে হয়নি। কংগ্রেস আমলে সেকথা কল্পনাও করা যায়নি। আজকের দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বরাক উপত্যকার উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে শিলচর – সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক নির্মাণ কাজের সূচনা হয়। আজকের দিনে সেই মহাসড়ক নির্মাণ কাজ শেষের পথে।

এই মহাসড়ক নির্মাণেও বরাক উপত্যকা থেকে কোন দাবিদাওয়া পেশ করতে হয়নি বা আন্দোলন করতে হয়নি। কিন্তু কংগ্রেসের শাসনামলে বরাক উপত্যকায় কোন উন্নয়নমূলক কাজ হতে গেলে দীর্ঘদিন দাবিদাওয়া পেশ, এমনকি আন্দোলন করতে হয়েছে। আজকের দিনে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য পেশ শালগঙ্গা সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি সুনীল নন্দী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শালগঙ্গা সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জিবিতেশ দাস। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস রায়, শালগঙ্গা জেলা পরিষদ সদস্যা দীপ্তি শুক্লবৈদ্য, জিপি সভানেত্রী লাকি এস চৌধুরী, শালগঙ্গা ভৈরববাড়ির মুখ্য পরিচালক পরিতোষ চক্রবর্তী ও স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক অরুণ কুমার রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক সুভাষ দে, মৃণাল কান্তি দে, অজিত চক্রবর্তী, মর্লি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ বিমল রঞ্জন বিশ্বাস, অঞ্জন ভট্টাচার্য, অজয় ভট্টাচার্য, পরিতোষ দাস, রূপাঞ্জন ভট্টাচার্য, জয়দীপ ধর, পূজা কমিটির সকল সদস্য ও সদস্যা, স্থানীয় জনগণ সহ অন্যান্যরা।



