বরাক তরঙ্গ, ২ মার্চ : রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিতে চা ও প্রাক্তন চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সমাজের এই প্রান্তিক অংশ বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বরাক উপত্যকার চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। তবে সম্প্রতি চা ও প্রাক্তন চা জনজাতির জাতি পরিচয় নিয়ে রাজ্যে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা।
সংগঠনগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসমে আনা চা জনগোষ্ঠীর জাতিগত পরিচয় নিয়ে বর্তমানে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চা-বাগানগুলিতে প্রচলিত জাতি পরিচয়ের সঙ্গে বরাক উপত্যকার চা জনগোষ্ঠীর কিছু জাতি ও পদবীর পার্থক্য রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সরকার গঠিত “স্পেশিয়াল কমিটি ফর ভেরিফিকেশন অফ কাস্ট স্টেটাস অফ টি অ্যান্ড এক্স টি গার্ডেন ট্রাইবস” বরাক উপত্যকার চা জনগোষ্ঠীর পুরুষানুক্রমে প্রচলিত কিছু জাতি ও পদবীকে স্বীকৃতি দিতে আপত্তি জানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কমিটি কিছু ক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীকে চা শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অনীহা প্রকাশ করেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বরাক উপত্যকার চা জনগোষ্ঠীর প্রকৃত অবস্থা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তবে সংগঠনের অভিযোগ, কমিটি তাদের যুক্তি ও বক্তব্য গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি, কমিটির কিছু সদস্য প্রার্থীদের জাতি পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে হেনস্তা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বরাক উপত্যকার চা জনগোষ্ঠীকে ভাষা, জাতি ও স্থানভিত্তিকভাবে আক্রমণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করা হচ্ছে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনগুলি।

সংগঠনগুলির দাবি, সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত বরাক উপত্যকার চা ও প্রাক্তন চা জনগোষ্ঠীর প্রার্থীরা জাতি যাচাই সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত দাবিপত্র পেশ করা হয়েছে। বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পূর্বে জমা দেওয়া জাতি ও পদবীর তালিকাও পুনরায় সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিন বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়ন, বরাক উপত্যকা চা যুব কল্যাণ সমিতি এবং বিভিন্ন জাতি ও পদবীর প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ একটি বিস্তৃত দাবিপত্র স্থানীয় জেলা কমিশনারের মাধ্যমে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধান ও ন্যায্য স্বীকৃতির দাবি জানানো



