বরাক তরঙ্গ, ৭ জানুয়ারি : স্ত্রী ও এক প্রতিবেশীকে দা দিয়ে কুপিয়ে পালানোর সয়ম পুলিশের গুলিতে মৃত্যু ঘটল এক ব্যক্তির। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে শিবসাগরের ডিমৌ এলাকার ডিরই চা-বাগিচার লাইনে। স্থানীয়দের বয়ান মতে রাত তখন প্রায় ৮টা। হঠাৎ শুরু হয় হুলস্থুল। ঘন কুয়াশার সঙ্গে প্রচণ্ড শীত, কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। “আজ তোকে কেটেই ফেলব”—এমন চিৎকার করে হাতে দা নিয়ে স্ত্রীকে তাড়া করে রঞ্জিত পাণ্ডব। দা দিয়ে দু’বার স্ত্রীকে কোপানোর চেষ্টা করলে তা ঘরের দেয়ালে লাগে এবং দেয়াল ভেঙে দু’ভাগ হয়ে যায়। স্বামীর উন্মত্ত রূপ দেখে অসহায় মহিলা চিৎকার শুরু করেন।
“আমাকে বাঁচান, ও এখনই আমাকে মেরে ফেলবে।” এর সঙ্গে সঙ্গে শোনা যাচ্ছিল অশ্লীল গালিগালাজ। সম্ভবত পারিবারিক কলহ থেকেই এই ঝগড়া। এদিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে চা-বাগানের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছিল—ভোরেই কাজে উঠতে হবে বলে।
তবে হুলস্থুল শুনে ঝগড়া থামাতে রঞ্জিত পাণ্ডবের বাড়ির উঠোনে হাজির হন মতিন পাণ্ডব নামের এক ব্যক্তি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “কি হয়েছে, কেন ঝগড়া করছ?” ঘরের ভেতর থেকে প্রাণভয়ে রঞ্জিত পাণ্ডবের স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, “ও আমাকে মেরে ফেলবে, দা নিয়ে মারতে তাড়া করছে।” এই কথা শুনে মতিন পাণ্ডব দরজা খুলে উঠোনে প্রবেশ করেন। ঠিক তখনই রঞ্জিত পাণ্ডব মতিনকে আক্রমণ করতে তেড়ে আসে।
“আমার ঘরের ঝগড়ায় কেন ঢুকেছ”—এই কথা বলে রঞ্জিত দা দিয়ে মতিনের ওপর কোপ মারে। দার আঘাতে উঠোনেই লুটিয়ে পড়েন মতিন পাণ্ডব। রক্তে ভেসে যায় তাঁর শরীর। মতিনকে আক্রমণের পর রঞ্জিত আবার নিজের স্ত্রীকেও একের পর এক দা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে হইচই শুরু হয়। আশপাশের লোকজন দ্রুত ডিমৌ পুলিশকে খবর দেয়।
এদিকে, নিজের স্ত্রী ও মতিন পাণ্ডবকে আক্রমণ করে রক্তমাখা দা হাতে উঠোনে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকে আক্রমণকারী রঞ্জিত পাণ্ডব। ভয়ে কেউ তার কাছে যেতে সাহস পায়নি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেখেই রঞ্জিত পেছনের সুপারি বাগানের দিকে দৌড় দেয়। তখন পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে রঞ্জিতের পায়ে গুলি লাগে।
এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মতিন পাণ্ডব ও ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ রঞ্জিত পাণ্ডবকেও সঙ্কটজনক অবস্থায় ডিমৌ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আক্রমণকারী রঞ্জিত পাণ্ডবের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত মতিন পাণ্ডব ও ওই মহিলাকে ডিমৌ হাসপাতাল থেকে AMCH-এ পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চা-বাগান এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।



