কাটিগড়ায় কাঁটাতারের ভেতরে চাষ করতে গিয়ে হামলা, আহত অন্তত ৬ কৃষক

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৫ এপ্রিল : কাটিগড়া বিধানসভার অন্তর্গত হরিনগর সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের ভিতরে অবস্থিত ভারতীয় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন একদল কৃষক। অভিযোগ, বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের আক্রমণে একজন গুরুতরসহ অন্তত ছয়জন কৃষক আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কৃষকরা নিজেদের জমিতে চাষ করতে যান, যা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের ভিতরে অবস্থিত। সেই সময় হঠাৎই লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল বাংলাদেশি দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আচমকা হামলায় আতঙ্কিত হয়ে কৃষকরা প্রাণ বাঁচাতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল হান্নান, তাজিম উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন ও মস্তুফা আহমদ। এর মধ্যে আব্দুল হান্নানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকেই হরিনগর সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২০০-রও বেশি কৃষক কাঁটাতারের বাইরে জড়ো হয়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কৃষকদের অভিযোগ, হামলার সময় সীমান্তে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করা হয়নি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সীমান্তে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব ও কিছু ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডেন্টের সময় থেকেই এলাকায় অনুপ্রবেশ, চুরি ও দুষ্কৃতী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে রাতের বেলায় গ্রামবাসীদের হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের নীরবতাও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের।

উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও বারবার হামলার ঘটনায় তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সীমান্তের কৃষক ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, টহল বৃদ্ধি এবং কাঁটাতারের ভিতরে নিরাপদে কৃষিকাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। নচেৎ ভবিষ্যতে আরও বড় অশান্তি ও মানবিক সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *