বরাক তরঙ্গ, ২৫ মার্চ : প্রযুক্তিনির্ভর সমাজগঠনের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণ সেন স্কুল অব টেকনোলজি। বুধবার পি সি বড়জালেঙ্গা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে আয়োজিত হয় স্কুল অব টেকনোলজির জাতীয়স্তরের প্রযুক্তি উৎসব ‘যন্ত্রাক্ষ’র অধীনে এই আউটরিচ কর্মসূচি। প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘যন্ত্রাক্ষ’ একটি প্রিমিয়ার টেকনো-অ্যাকাডেমিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উদ্ভাবন, আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষা এবং সমাজমুখী প্রযুক্তির প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হয়। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রযুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে সহায়ক হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে স্কুল অব টেকনোলজির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নিলেশ মাইতি ও জিত গারানি। এছাড়াও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র-প্রশিক্ষণার্থীরা। এদিন মূলত উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ পেশা নির্বাচনে সঠিক দিশা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। মূল বক্তৃতায় নিলেশ মাইতি আর্টস বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজকর্ম, আইন, সিভিল সার্ভিস, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন আন্তঃবিভাগীয় পেশার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সংযোজন এই ক্ষেত্রগুলির প্রচলিত কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে, ফলে ডিজিটাল দক্ষতা ও অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট সংক্রান্ত নির্দেশনা। এতে পরীক্ষার ধরণ, বিষয় নির্বাচন ও প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি খেলাধুলা, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়। প্রযুক্তি ও সমাজকর্মের সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে কমিউনিটি আউটরিচ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী পথ তৈরি করা সম্ভব, তাও তুলে ধরা হয়।
এই কর্মসূচির সমন্বয় করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. লালজো এস. থাংজম। কর্মসূচির দিকনির্দেশনা দেন স্কুল অব টেকনোলজির ডিন তথা ‘যন্ত্রাক্ষ’-এর পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক সুদীপ্ত রায়। অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ এই সেশনে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায় এবং এর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাবের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।



