বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মার্চ : শিলচরে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা হতেই আনন্দে ফেটে পড়লেন সমর্থকরা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় উদযাপন। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে টিকিট পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শিলচরের আশ্রম রোড ও কলেজ রোড এলাকায় দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস। স্থানীয় বাসিন্দারা বাজি ফাটিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে এবং একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন।
এদিন কাছাড় জেলা বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে উল্লাসের চিত্র ফুটে উঠে। প্রার্থী ঘোষণার পর কর্মীসমর্থকরা বাজি ফাটানো, আবির খেলা এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন। নেতা কর্মীরা বিজেপি জিন্দাবাদ, ভারত মাতা কি জয় এবং প্রার্থীদের সমর্থনে শ্লোগান দিয়ে জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণ আনন্দমুখর করে তুলেন। বৃহস্পতিবার শিলচরের কাছাড় জেলা বিজেপির সদর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী তথা লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় একথাগুলো বলেন। তিনি বলেন,লক্ষ্মীপুর বিধানসভার জনসাধারণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সবার এই অটুট বিশ্বাস ও স্নেহই আমাকে এগিয়ে চলার নতুন শক্তি ও অনুপ্রেরণা জোগায়। লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁকে দ্বিতীয় বারের মতো টিকিট দেওয়ায় দলের সকল কার্যকর্তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। কৌশিক বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া তার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য তিনি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, লক্ষীপুর বিধানসভার সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন এবং প্রতিটি মানুষের কল্যাণে আগামী দিনগুলোতেও নিষ্ঠা, সততা ও অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাবেন। এরজন্য সবার ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আশীর্বাদ তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
এদিন জেলা বিজেপি কার্য্যালয়ে কাছাড় জেলার ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। কৌশিক জানান,আগামী ২৩ মার্চ সোমবার সবাই মনোনীত প্রার্থী জনসাধারণের আশীর্বাদ নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন। এরজন্য সকলের উপস্থিতি, সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি সকলে যেন জনগণের সেবা ও কল্যাণের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যান, তা কামনা করেন তিনি। অসম বিধানসভা নিৰ্বাচন ২০২৬এর জন্য টিকট লাভ করা ভারতীয় জনতা পাৰ্টি অসম প্ৰদেশের সমূহ কাৰ্যকৰ্তকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায়, ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়ার নেতৃত্বে শাসন ক্ষমতায় আসবেন এবং আসাম প্রগতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

উল্লেখ্য, এদিন প্ৰাৰ্থী তালিকা ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থীরা একের পর একজন করে কাছাড় জেলা বিজেপির কার্যালয়ে উপস্থিত হন। বরাক উপত্যকার মর্যাদা সম্পন্ন আসন শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায় বলেন, তাঁকে প্রার্থী করায় গুয়াহাটি, দিল্লির সকল উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এর আগে তিনি পাঁচ বছর সাংসদ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবারও আগামী পাঁচ বছরে শিলচরের উন্নয়নে কাজ করবেন। বিশেষ করে দলের আর্দশ ও ননীতিকে সামনে রেখে কাজ করবেন তিনি। রাজদীপ বলেন, বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, দিলীপকুমার পালের অর্দ্ধ সমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করবেন তিনি। এরজন্য শিলচরবাসীর আশীর্বাদ চান তিনি। তিনি বরাক উপত্যকা সহ রাজ্যের ভারতীয় জনতা পাৰ্টির মনোনীত সকল প্ৰাৰ্থীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

এদিন কাটিগড়ার বিজেপি প্রার্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন,দলীয় হাইকমান্ড তার পতাকার নিচে জায়গা দিয়েছে,এতে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব কে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। কাটিগড়াকে এক উন্নত সমষ্টিতে রূপান্তরিত করাই তাঁর স্বপ্ন। ধলাইর প্রার্থী অমিয় কান্তি দাশ বলেন, তাকে টিকিট প্ৰদান করায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ধলাইয়ের দেবতুল্য কার্যকর্তা, মণ্ডল কমিটির সভাপতি, বুথ কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব সবার আশীর্বাদে আমি আজ এই জায়গায়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য এবং জেলা সভাপতিকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আরও বলেন, ধলাইয়ে বিগত দিনে পরিমল শুক্লবৈদ্য এবং নিহার রঞ্জন দাস যে উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছেন, তিনি সেই কাজকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। উধারবন্দের প্রার্থী রাজদীপ গোয়ালা বলেন,আজকের এই মুহূর্তটা তাঁর কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক দায়িত্বের শুধু একটা শুরুয়াত নয় বরং এটা তাঁর জীবনের এক গভীর আবেগের অধ্যায়। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিরলসভাবে উধারবন্দের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবেন তিনি।



