গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মহফিল ও জাতীয় শিক্ষানীতির ওপর সিম্পোজিয়াম সম্পন্ন

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ জানুয়ারি : শিলচর গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বার্ষিক মিলাদ মহফিল ও জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর ওপর এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সিম্পোজিয়াম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এ দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে মিলাদ মহফিলের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাত, বক্তৃতা, সেমিনার উপস্থাপনা, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, নাট্য পরিবেশনা ও শিক্ষামূলক সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ শীর্ষক জাতীয় সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তা ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার উপাচার্য ড. মাজহার আসিফ। শিক্ষানীতির বহুমাত্রিক দিক, গবেষণার সম্ভাবনা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার দিকনির্দেশনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য সিম্পোজিয়ামকে নতুন মাত্রা প্রদান করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাবায়া পারভিন আসিফ, শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের সম্পাদক স্বামী গণধীশানানন্দ মহারাজ এবং ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী। বক্তারা শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সামাজিক অংশগ্রহণ, মূল্যভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণার মানোন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায় এবং সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন প্রফেসর সাহিন আহমেদ।  তাঁদের দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন এক অনন্য শিক্ষামূলক ও আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মিলাদ মহফিল ও সিম্পোজিয়ামের সমাপ্তি পর্বে শান্তি, সম্প্রীতি, শিক্ষার অগ্রগতি ও সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্যে বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষানীতির সুফল সমানভাবে গ্রহণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *