দীর্ঘ ১৩ বছরের লড়াই শেষ, দেশের প্রথম আইনি ‘ইচ্ছামৃত্যু’র সাক্ষী থাকল এইমস, চিরঘুমে হরিশ রানা 

Spread the news

২৪ মার্চ : ভারতের বিচারবিভাগ ও চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’ বা পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যু বরণ করলেন ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রানা (Harish Rana)। মঙ্গলবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা মরণাপন্ন অবস্থায় কৃত্রিম সহায়তায় বেঁচে ছিলেন এই প্রাক্তন বিটেক ছাত্র।

পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির বিটেক ছাত্র থাকাকালীন ২০১৩ সালে চতুর্থ তলার বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশ। সেই থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। স্বাভাবিক জ্ঞান ছিল না, বেঁচে ছিলেন কেবল কৃত্রিম পুষ্টি এবং মাঝেমধ্যে অক্সিজেনের সহায়তায়। গত ১১ মার্চ ভারতের শীর্ষ আদালত তাঁর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে হরিশের ক্ষেত্রে ‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’র অনুমতি দেয়।

আদালতের নির্দেশের পর গত ১৪ মার্চ হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমস-এর ডঃ বিআর আম্বেদকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়। অ্যানেস্থেশিয়া এবং প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডঃ সীমা মিশ্রর নেতৃত্বে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম তাঁর দায়িত্ব নেয়। এই দলে নিউরোসার্জারি, অনকো-অ্যানেস্থেশিয়া এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং কঠোর মেডিকেল প্রোটোকল মেনে গত কয়েকদিন ধরে হরিশের কৃত্রিম পুষ্টি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হয়। চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে তাঁর মৃত্যু যন্ত্রণাময় না হয় এবং জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো মর্যাদা রক্ষা পায়।

হরিশ রানার এই মামলাটি ভারতে ‘রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি’ বা মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারের প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করল। ইতিপূর্বে অরুণা শানবাগের মামলায় ইচ্ছামৃত্যুর বিষয়টি আলোচনায় এলেও, হরিশের ঘটনাই প্রথম যেখানে আদালত ও চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলো। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি এবং আইনি সুরক্ষাকবচের মেলবন্ধনে এই ঘটনা ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার বিবর্তনের এক সাক্ষী হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *