আবুল হাসান চৌধুরীর উপন্যাস “আলোর নারী নুরজাহান” উন্মোচিত

ইকবাল লস্কর, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ ফেব্রুয়ারি: উন্মোচিত হল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিক ড. আবুল হাসান চৌধুরীর ভিন্ন স্বাদের চতুর্থ গ্রন্থ। আগের তিনটি বইয়ের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রবন্ধ সংকলন এবং গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হলেও এবারের বইটি জীবনকাহীনি নির্ভর উপন্যাস “আলোর নারী নুরজাহান”। রবিবার আইরিশ ইংলিশ স্কুলে বরাক এডুকেশন সোসাইটির সহযোগিতায় আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচন করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তথা বরাক এডুকেশন সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. অশোক সেন, সোনাই মাধব চন্দ্র দাস কলেজের অধ্যক্ষ ড০ বাহারুল ইসলাম লস্কর, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন বখত, অধ্যাপক শুভদীপ রায় চৌধুরী, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ড. অদিতি নাথ,  আলগাপুর এম এইচ সি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ড. মরিয়ম বেগম লস্কর, আইরিশ ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষা আফসানা খানম মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডাঃ শতভিষা রায় চৌধুরী, জীবন বিমা নিগমের ডেভেলপমেন্ট অফিসার তথা বরাক এডুকেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক লালমিয়া লস্কর, সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মী মিলন উদ্দিন লস্কর সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপন্যাস লেখার প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন লেখক ড০ আবুল হাসান চৌধুরী। পরে লেখকের বই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লাল মিয়া লস্কর। তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় জীবনগ্রাহী গোটা উপন্যাসটির বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে উপস্থিত জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ড. চৌধুরী তার লিখিত বইয়ে সমাজিক জীবনের চিত্র আয়নার মতো দেখিয়ে দিয়েছেন। উপন্যাসে নায়ক, নায়িকার মাধ্যমে প্রেমপ্রীতি যেমন প্রস্ফুটিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই সামাজিক চালচিত্রের স্থান, কাল, পাত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। বইয়ের নিদ্রিষ্ট আলোচকের মধ্যে ড. মরিয়ম বেগম লস্কর বলেন, লেখকের উপন্যাসের নামের সঙ্গে বিষয়বস্তু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নারীর মর্যাদাও উপন্যাসের চরিত্র চয়নের ফুটিয়ে উঠেছে। এদিনের অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত আবেগিক করে তুলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা সহকারি অধ্যাপিকা অদিতি নাথ। তিনি বলেন, উপন্যাসে লেখক অতি সহজ ভাষা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বইয়ের প্রতিটি ভাষা আবার অতি মর্মস্পর্শী। একটি লাইন পড়ার পর আরেকটি লাইন পড়ার আগ্রহ বাড়তে থাকে। এভাবে যেকোন একজন ব্যক্তি লেখকের বই অনায়াসে পড়তে পারেন। কারন বইয়ের প্রতিটি শব্দ অর্থবহ, আবেগিক এবং সাধারণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর অফুরান মিল রয়েছে বলে মত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক অশোক সেন বলেন, লেখক পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিক হয়ে একজন গবেষনী ধর্মী লেখকও বটে। তবে এবারে সব কিছু ছাপিয়ে উপন্যাস লিখে তার বহুমুখী গুনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে লেখকের আরো উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যান্যদের মধ্যে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক হুমায়ুন বখত, অধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম লস্কর, আইরিশ ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষা আফসানা খানম চৌধুরী, মিলন উদ্দিন লস্কর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. আলি হোসেন বড়ভূইয়া, জাকারিয়া আহমেদ বড়ভূইয়া, নজরুল হক মজুমদার, আনোয়ারুল হক লস্কর,  দিদারুল ইসলাম তালুকদার, বেগম রোশনা চৌধুরী, ওরিয়েন্টাল ইনস্যুরেন্সের ডিভিশনাল ম্যানেজার আবুল হোসেন লস্কর, ইকবাল বাহার লস্কর প্রমুখ। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামিল আহমেদ বড়ভূইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *