উত্তর গুয়াহাটিতে হাইকোর্ট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিরোধিতাকারীদের কড়া জবাব

বরাক তরঙ্গ, ১১ জানুয়ারি : দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত উত্তর গুয়াহাটির রংমহলে নতুন সমন্বিত বিচারালয় চৌহদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। গৌহাটি হাইকোর্ট স্থানান্তরের জন্য উত্তর গুয়াহাটির রংমহলে একটি নতুন বিশাল সমন্বিত বিচারালয় নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে স্থানান্তরের বিরোধিতাকারীদের একপ্রকার কড়া জবাব দেন দেশের প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ককে একপাশে রেখে রবিবার উত্তর গুয়াহাটির রংমহলে এক বিশাল আয়োজনে গৌহাটি হাইকোর্টের জন্য একটি নতুন চৌহদের নির্মাণকাজের শুভ সূচনা করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজন মেটাতে এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে মোট ১,৭০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে এই ‘জুডিশিয়াল সিটি’ নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে অসম সরকার এ জন্য ৪৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রায় ৪৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই সমন্বিত বিচারালয় চৌহদের ভূমিপূজন অনুষ্ঠান রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। এই টাউনশিপ বিচারিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত উত্তর গুয়াহাটির রংমহলে সমন্বিত বিচারালয় চৌহদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রবিবারের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে আখ্যা দেন। এই বিচারিক পরিকাঠামো নতুন প্রজন্মের জন্য বলে মন্তব্য করে আদালত চৌহদ উত্তর গুৱাহাটীতে স্থানান্তরের বিরোধিতা করা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থে স্থানান্তরের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে গুয়াহাটি বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীদের প্রতিবাদকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।

তিনি বলেন, “এই নতুন বিচারিক পরিকাঠামো উন্নয়নের বিরুদ্ধে বার অ্যাসোসিয়েশনের একাংশ বিরোধিতা করছে—এ কথা যখন প্রথম আমার নজরে আসে, তখন আমি বিস্মিত হই। হয় তারা ভুল তথ্যের শিকার, নতুবা তারা বারের নতুন প্রজন্মের সদস্য এবং ভবিষ্যতে এই পেশায় যোগ দিতে ইচ্ছুকদের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে না।”

উল্লেখ্য, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান চলাকালীনও বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা লতাশিলস্থিত হাইকোর্টের সামনে উত্তর গুয়াহাটিতে হাই কোর্ট স্থানান্তরের বিরোধিতা করে রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে বলেন, যারা হাইকোর্ট স্থানান্তরের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত বর্তমান চৌহদের আশপাশে থাকা নিজেদের কার্যালয় সংক্রান্ত স্বার্থের কারণেই এই বিরোধিতা করছেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আরও বলেন, “আমার মনে হয় তারা এখনও বোঝেনি—নিজেদের ন্যস্ত স্বার্থের জন্য, কেবল পুরনো চৌহদের পাশে থাকা ভালো কার্যালয়ের সুবিধার কারণে যুক্তিসংগত ও ন্যায্য ভিত্তি ছাড়া আধুনিক যুগের ভবিষ্যতমুখী পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষতি করা উচিত নয়। তাই আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আহ্বান জানাই, যেন আর্থ-সামাজিক ও পেশাগত জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে প্রতিটি তরুণ আইনজীবীর জন্য ওকালতি করার পর্যাপ্ত স্থান নিশ্চিত করা হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *