কুসংস্কারের জেরে বর্বরতার শিকার, একমাস জঙ্গলে কাটানোর পর আট সদস্যের পরিবার জয়পুর থানায় আশ্রয়

Spread the news

কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ৭ মার্চ : আধুনিক যুগেও কুসংস্কারের জেরে বর্বরতার শিকার হল এক খাসিয়া পরিবার। ডাইনি অপবাদ দিয়ে কাছাড় জেলার জয়পুর থানা এলাকার হরিনগর মুক্তাছড়া খাসিয়া পুঞ্জি থেকে একটি অসহায় পরিবারকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে একই পুঞ্জির কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। শনিবার প্রায় একমাস জঙ্গলে কাটানোর পর আট সদস্যের ওই পরিবারটি জয়পুর থানায় এসে আশ্রয় নেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে পুঞ্জির কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত থানাতেই আশ্রিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পরিবারটি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরীহ মানুষ। পুঞ্জির কোনও পরিবারে কেউ অসুস্থ হলেই তাদের উপর ডাইনি অপবাদ চাপানো হতো। গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঞ্জির কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে তাদের পুঞ্জি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। এমনকি না গেলে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া ও প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

প্রাণভয়ে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। প্রায় একমাস ধরে জঙ্গলে লতাপাতা ও কলাগাছ খেয়ে দিন কাটানোর পর শনিবার সুযোগ বুঝে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে তারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। পরে কালিনগরের এক ব্যক্তির সহায়তায় অটোরিকশায় করে জয়পুর থানায় পৌঁছায়।

তাদের কাছে সামান্য খরচের টাকাও না থাকায় প্রাথমিকভাবে মানবিকতার খাতিরে থানার পুলিশকর্মীরাই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তবে পুঞ্জিবাসীদের একাংশ ডাইনি সন্দেহে পরিবারটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

পরিবারটির দাবি, পুঞ্জির কারও অসুখ হলেই তাদের ডাইনি বলে অপবাদ দেওয়া হতো এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতেই তারা পুঞ্জি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজু খাসিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ক্রিংলি খাসিয়া, ব্রিক খাসিয়া, স্টেফাং খাসিয়া ও এনিআও খাসিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০–১৫ জন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিবারটির আট সদস্যই জয়পুর থানায় অবস্থান করছেন। ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *