মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ মার্চ : দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল শনিবার পাথারকান্দিবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হয়ে রইলো। কারণ, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের উদ্যোগে পাথারকান্দি রেলওয়ে স্টেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনের নতুন স্টপেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের লামডিং ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, শনিবার আনুষ্ঠানিক ফ্ল্যাগ অফের মাধ্যমে ১২৫০৩/১২৫০৪ এসএমভিটি আগরতলা-বেঙ্গালুরু হামসফর এক্সপ্রেস ট্রেনটির পাথারকান্দি রেলস্টেশনে নিয়মিত স্টপেজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ট্রেনটির স্টপেজ চালু হওয়ায় দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে পাথারকান্দি রেলওয়ে স্টেশনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে ট্রেনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্ল্যাগ অফ করে নতুন স্টপেজের সূচনা করা হবে। রেল বিভাগের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। শুধু তাই নয়, একই দিনে পাথারকান্দি রেলস্টেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু করা হচ্ছে। ১৩১৭৩/১৩১৭৪ শিয়ালদা–সাব্রুম কাঞ্চনজঙ্গা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকেও এদিন থেকে এই স্টেশনে নিয়মিত স্টপেজ দেওয়া হবে। এই উপলক্ষে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে পাথারকান্দিবাসীর পক্ষ থেকে ট্রেনটিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় মানুষজন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ট্রেনটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়মিত স্টপেজের উদ্বোধন করা হবে।দীর্ঘদিন ধরে পাথারকান্দিবাসী এই দুটি ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় এলাকায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ চালু হওয়াতে পাথারকান্দি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত অনেক বেশি সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাথারকান্দি রেলস্টেশনে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্টেশন চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, সাজসজ্জা ও অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায় এই দিনটি পাথারকান্দিবাসীর জন্য এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু হওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।



