আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহদ দিবস যৌথভাবে পালন এআইডিএসও-র

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২১ ফেব্রুয়ারি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করল ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও, মহিলা সংগঠন এআইএমএসএস, যুব সংগঠন এআইডিওয়াইও এবং কিশোর-কিশোরী সংগঠন কমসোমল এর কাছাড় জেলা কমিটি। শনিবার সকাল ৯ টায় শিলচর স্টেশনে মাতৃভাষা স্মূতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন এআইডিএসও’র আসাম রাজ্য কাউন্সিলের সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য, রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত ভট্টাচার্য, জেলা কমিটির সহ সভাপতি আপন লাল দাস, জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, রাজ্য কাউন্সিলের সদস্য দেবু বৈষ্ণব, যুব সংগঠন এআইডিওয়াইও’র পক্ষে সৌরভ দেব, মহিলা সংগঠন এআইএমএএস এর পক্ষে খাদেজা লস্কর, কমসোমল এর পক্ষে স্বরূপ মালাকার এবং উপস্থিত সংগঠনগুলোর সদস্যবৃন্দ। এরপর উপস্থিত জনগণের সামনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে  বক্তব্য রাখেন হিল্লোল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন ১৯৫২ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তান সরকার তখন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বলেছিল উর্দু হল ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ভাষা। তারা বলেছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উর্দু ভাষা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী জনগণ সরকার ও মৌলবাদীদের প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরের ছাত্রদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন দমন করতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে শহিদ হন আবুল, রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার সহ অন্যান্য সত্যাগ্রহীরা। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় ছাত্র জনতার দাবি মেনে নিতে। তিনি বলেন, ১৯৬১, ১৯৭২, ১৯৮৬ সালে অসম সরকার উগ্র প্রাদেশিকতাবাদী শক্তির কু- প্ররোচনায় অসমিয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে  শহিদ হন কমলা ভট্টাচার্য সহ আরো ১৩ জন আন্দোলনকারী। শহিদদের আত্মবলিদানের বিনিময়ে রক্ষিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষ মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হয়েছিলেন সুদেষ্ণা সিনহা। বরাক উপত্যকার জনগণের অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে পাথেও করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। আজ আমরা লক্ষ করছি বরাক উপত্যকার জনগণের মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে সুকৌশলে। সম্প্রতি মেট্রিক পরীক্ষার বাংলা মাধ্যমের সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে অমার্জনীয় ত্রুটি করা হয়েছে। এছাড়াও মাতৃভাষা মাধ্যমের সরকারী স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে মাতৃভাষা বিষয়ের শিক্ষককের পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রাখা হয়েছে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা এবিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ না পায়। তিনি মাতৃভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক- ধর্মনিরপেক্ষ  সংগ্রামী চেতনাকে পাথেও করে মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার গ্রহণ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন গৌতম নন্দী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *