বরাক তরঙ্গ, ১৮ ফেব্রুয়ারি : ছদিন ধরে নিজেদের নায্য দাবিদাওয়া আদায়ের দাবিতে বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়ের সত্যাগ্রহ তথা অনশন কর্মসূচি চলছে। অথচ এখন অবধি সরকারি তরফে কোন ইতিবাচক সাড়া নেই। বুধবার বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের এক প্রতিনিধিদল অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
শহিদ ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে নির্মিত অস্থায়ী অনশন মঞ্চ থেকে এদিন বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের সাথে বরাক উপত্যকা তথা বাংলাভাষীদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন আজ অনশন মঞ্চে যাঁরা তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই আকসার বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। শুধু তাই নয় ১৯৬১ এর ভাষা আন্দোলনের সময়ও বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছিলেন।যখন ভাষা শহিদদের আত্মাহুতি দিতে হয় তখন আসাম বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়ক ছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের নন্দ কিশোর সিংহ। সরকারের এই অবিমৃষ্যকারী পদক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি তখন বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাই বরাক উপত্যকা তথা বাংলাভাষার অধিকার রক্ষায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের অবদান এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি আরও বলেন যে বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষা শহিদ সুদেষ্ণা সিনহা আমাদের সবার বোন। একাদশ শহিদের সঙ্গে তাঁকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রত্যেক বরাকবাসী।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন বলেন এটা রীতিমতো আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে একবিংশ শতাব্দীতে এসে আবার ভাষার অধিকার রক্ষায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের অনশন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি শুনে আরও অবাক হচ্ছেন যে গত ছয়দিন ধরে এই অনশন কর্মসূচি চলছে অথচ সরকার পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে এখনও কোন যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি বলেন শহিদ সুদেষ্ণার আত্মত্যাগ ও লাগাতার আন্দোলনের ফলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের যে ভাষা সরকারি স্বীকৃতি পেল আজ শিক্ষক পদের অভাবে সেই ভাষায় পঠনপাঠন বন্ধ হবার উপক্রম। তাঁদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যে উন্নয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছিল, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে তাঁর সমস্ত বরাদ্দ বন্ধ। প্রদীপ দত্তরায় সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের এই নায্য দাবির সপক্ষে দাঁড়াবার এবং তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে তিনি সরকার তথা জেলা প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক তাঁরা। অন্যথা বৃহত্তর আন্দোলনের মোকাবেলা করতে হবে তাঁদের।
বিডিএফ আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এদিন অনশন মঞ্চ থেকে বলেন যে ষাটের দশকে প্রয়াত বিজেপি নেতা তথা তৎকালীন মন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী মণিপুরি সম্প্রদায়ের ভাষিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পাঁচ দশক পেরিয়ে যাবার পর একই ইস্যুতে বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়কে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করতে হচ্ছে,এ রীতিমতো আক্ষেপের ব্যাপার। তিনি বলেন, বিষ্ণুপ্রিয়াদের যেসব নায্য দাবিদাওয়া নিয়ে এই আন্দোলন চলছে তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বিডিএফ এর। তিনি বলেন, অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে কেবিনেট সিদ্ধান্ত নিক সরকার। অন্যথায় অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর জন্য সম্পূর্ণ দায়ি থাকবে সরকার তথা কাছাড় জেলা প্রশাসন।



