কর্মস্থলে নির্যাতন ও মানসিক হয়রানি, জিএমসি-র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা সহযোগী অধ্যাপিকার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৭ ফেব্রুয়ারি : গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিবেশ এক জ্যেষ্ঠ মহিলা চিকিৎসকের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডাঃ অচ্যুত বৈশ্যর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপিকা। একজন মহিলার মর্যাদাহানি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত এই অভিযোগের পরই মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে একটি এজাহার নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে একটি উচ্চস্তরীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা তথা প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান গত ৬ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ তাঁর কর্মকালীন সময়ে অনুচিত মন্তব্য, হুমকি এবং ধারাবাহিকভাবে পেশাগত হয়রানি চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশের কাছে দায়ের করা এজাহারে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন যে, স্বতন্ত্র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর প্রথমদিকে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অধ্যক্ষ তাঁকে নিজের দপ্তরে একা দেখা করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করায় সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত থাকেন। চিকিৎসকের দাবি, এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাও সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ তাঁকে “সম্পূর্ণ একা ও অবসর সময়ে” ফোন করতে বলেন এবং তাঁর জন্য “দরজা সবসময় খোলা” রয়েছে বলে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। একজন বিধবা মহিলা ও অধীনস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এই ধরনের আচরণ তাঁকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে বলে তিনি জানান।

এই মন্তব্যের পাশাপাশি চিকিৎসক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পরও তাঁকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, যার ফলে চিকিৎসা শিক্ষা পরিচালনালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। এছাড়া বিভাগের পাঠ্যক্রম চালু করা, শিক্ষক নিয়োগ এবং বিভাগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব বারবার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

এমনকি গবেষণার বিষয়ে আলোচনার সময় অধ্যক্ষ তাঁর স্ত্রীকে বিভাগীয় গবেষণা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন, যা চিকিৎসক অনুচিত বলে মনে করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন হঠাৎ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ বাতিল করে অন্য একটি বিভাগের সঙ্গে একীভূত করার নির্দেশ জারি করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুয়াহাটির পানবাজার মহিলা পুলিশ থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ডাঃ অচ্যুত বৈশ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করবেন না, তবে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থাপনের জন্য তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ মহিলা আইনজীবী এবং একজন মহিলা সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিকে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *