বিদ্যুৎ খণ্ডের বেসরকারিকরণের অপচেষ্টা বন্ধ করা সহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ ফেব্রুয়ারি : বিদ্যুৎ খণ্ডের বেসরকারিকরণের অপচেষ্টা বন্ধ করা, সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে প্রদান করা, এপিডিসিএল এর লাভ করা ৪০০ কোটি টাকার আনুপাতিক হারে বিদ্যুৎ মাশুল হ্রাস করা সহ অন্যান্য দাবিতে আজ অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজ্য ভিত্তিক প্রতিবাদ দিবস পালন করা হয়। সোমবার দুপুর ১২ টায় সংগঠনের রাজ্য শাখার আহ্বানে কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যরা শিলচরের পানপট্টিস্থিত এপিডিসিএল এর কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালে সেখানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা নির্মলকুমার দাস, সহ-সভাপতি মধুসূদন কর, সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য ও রাজ্য শাখার অন্যতম আহ্বায়ক হিল্লোল ভট্টাচার্য প্রমুখ।

তাঁরা বলেন, বিদ্যুৎ খণ্ডের বেসরকারিকরণের অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে ২০২২ সাল থেকে ঘরে ঘরে জোর করে প্রিপেড স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে প্রথমেই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হাজার হাজার মিটার রিডারের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের ট্যাক্সের’ টাকায় গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ বিভাগের পরিষেবা মূলক চরিত্রকে এক ধাক্কায় পরিবর্তন করে ব্যবসায়ীক পণ্যে পরিণত করা হয়। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকদের কার্যতঃ অন্ধকারে রেখে বৈদ্যুতিক মিটারের নিয়ন্ত্রণ তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে গোটা রাজ্যের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। গোটা রাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে কিন্তু কর্পোরেট বান্ধব আসাম সরকার এতে কর্ণপাত করেনি। বর্তমানে যেসব গ্রাহক স্মার্ট মিটার বসাতে চাইছেন না তাদেরকে অতিরিক্ত হারে অ্যাভারেজ বিল পাঠিয়ে তা বসাতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ এও বলা হয় যে দিল্লি, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, বিহার সরকারের মতো আসাম সরকারকেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ১২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে, গত বছর এপিডিসিএল এর লাভ করা ৪০০ কোটি টাকার আনুপাতিক হারে বিদ্যুৎ মাশুল হ্রাস করতে হবে, চূড়ান্ত গ্রাহক বিরোধী ও জন বিরোধী বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল, ২০২৫ বাতিল করতে হবে, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সিজিআরএফ প্রতিটি ডিভিশন, সাবডিভিশনে অবিলম্বে গঠন করতে হবে,  বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া বিদ্যুৎ বিভাগের স্থায়ী, অস্থায়ী কর্মচারী সহ সাধারণ মানুষের নিকটাত্মীয়দের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে ইত্যাদি। বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবি সম্বলিত একটি স্মারকপত্র এজিএম মারফত প্রদান করা হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্মারকপত্র প্রদান কালে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কোর্ডিনেশন কমিটির অন্যতম সদস্য মানস দাস, অধ্যাপক অজয় রায়, ভবতোষ চক্রবর্তী, মাখন পাল, দীলিপ নাথ, পরিতোষ ভট্টাচার্য, খাদেজা লস্কর, মোহনলাল মালা, দীলিপ কালোয়ার সহ অন্যান্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *