দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ ফেব্রুয়ারি : মালুগ্রাম মহাপ্রভু কলোনির প্রায় ৭০ বছরের প্রাচীন পুকুরের জমি জবরদখলের অভিযোগে রবিবার এক নাগরিক সভায় তীব্র প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মহাপ্রভু কলোনি কমিউনিটি পন্ড ব্লক বি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি-র আহ্বানে মালুগ্রাম মেলারোড উৎসব ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধবেন্দ্র রায় চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি শ্যামসুন্দর দত্ত পুরকায়স্থ, প্রাক্তন সভাপতি তপজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ সন্তোষ চক্রবর্তী এবং গ্রিন অরণ্য-র সভাপতি বিমলেন্দ্র রায়। সভা পরিচালনা করেন রূপালি দত্ত। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ, তমোজিৎ ভট্টাচার্যসহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
সভায় মহাপ্রভু কলোনি ব্লক বি’র পুকুর সংরক্ষণ, জল বিশুদ্ধতা বজায় রাখা এবং পুকুরের চারপাশে গার্ডওয়াল নির্মাণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শ্যামসুন্দর দত্ত পুরকায়স্থ জানান, প্রায় ৪ বিঘা ৪ খাটা জমিতে ১৬টি পরিবার বসবাস করছে এবং দেবাঞ্জলি দেব করের নেতৃত্বে ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
তপজ্যোতি ভট্টাচার্য বলেন, ১৯৫৬ সালের ৩ এপ্রিল দলিলের মাধ্যমে দেশভাগের পর ছিন্নমূল শরণার্থীদের জন্য এই জমি বিক্রি করা হয়েছিল এবং পূর্বসূরীরা পানীয় জলের সুবিধার জন্য পুকুর খনন করেন। বর্তমানে ভুয়া নথির মাধ্যমে বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পুকুরটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

বিমলেন্দ্র রায় বলেন, পুকুরটি এলাকার পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাভূমি সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই পুকুর রক্ষায় গণআন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
সভায় সর্বসম্মতভাবে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জলাভূমি সংরক্ষণ আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। পাশাপাশি মহাপ্রভু কলোনি কমিউনিটি পন্ড উন্নয়ন সোসাইটি-র অধীনে পুকুর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বন্দিতা ত্রিবেদী-কে। সদস্য হিসেবে সন্তোষ চক্রবর্তী, বিমলেন্দ্র রায়, বাসুদেব শর্মা, কিশোর ভট্টাচার্য, অলক কর, সঞ্জীব রায়, আর্চিতেন্দু দাস (কিষান), ভবানী ভট্টাচার্য ও হিমাংশু ঘোষসহ অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত নাগরিকরা জানান, মালুগ্রামের মতো শান্তিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অভূতপূর্ব। ভবিষ্যতে পুকুর রক্ষায় প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দেন



