মান্তু নাথ, বড়খলা।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ ফেব্রুয়ারি: কাছাড় জেলার বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের ডলু এলাকায় ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে রাজেশ মির্দার মৃত্যুকে ঘিরে। মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় এবং এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।
জানা গেছে, গত সোমবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ ডলু এলাকার বাসিন্দা রাজেশ মির্দাকে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করে বড়খলা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পেশ করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বড়খলার বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিপূরণ ও ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
কিন্তু শেষকৃত্যের সময় নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা দাবি করেন, রাজেশ মির্দার দেহে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গেই কবর থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে ডলু মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন ক্ষুব্ধ জনতা। সড়কের উপর মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একদিকে বিক্ষোভকারীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, অন্যদিকে পুলিশের মৃদু লাঠিচার্জ—মুহূর্তের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা, নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান পথচারীরাও।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে মহাসড়কের পাশেই রাজেশ মির্দার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাজেশ মির্দার মৃত্যু কি স্বাভাবিক ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন কীভাবে এলো? ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার জনগণ।



