বরাক তরঙ্গ, ১২ ফেব্রেয়ারি : আজ, দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিলচরে ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ভারত বনধে অংশগ্রহণ করে। সংস্থার সদস্যরা কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তোলা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এদিন বনধে সামিল হোন এবং ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখার সামনে জমায়েত করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার একের পর এক কর্মচারী বিরোধী নীতির ফলে কর্মচারীদের স্বার্থ ব্যাহত হচ্ছে। দেশের রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর মুনাফা সর্বকালীন উচ্চস্থরে পৌঁছে গেছে বলে যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে দিনের পর দিন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে সেখানে সেই ব্যাঙ্কগুলোতে কর্মচারীদের কাজের পরিবেশের ওপর আঘাত আনা হচ্ছে। প্রতি ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ বাড়ছে। নামমাত্র বেতন ও বিনা সামাজিক নিরাপত্তা দিয়ে এই কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এদিকে প্রায় প্রতিটি শাখায় আধিকারিক সহ কর্মী সংখ্যা কম করে দেওয়া হয়েছে। দেশে বাড়তে থাকা বেকারত্বের সুযোগ নিয়েই সরকার এই নীতি প্রণয়ন করেছে। অথচ এখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কঠোর শ্রম আইনের প্রয়োজন ছিল। সে পথে না গিয়ে সরকার এখানে নিজের স্বার্থপূরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় একদিকে যেমন দেশের শিক্ষিত যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ব্যাঙ্কের পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিচিত্র শুধু ব্যাংক না, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রোজগার প্রদানকারী সংস্থা রেল সহ সব সরকারি বিভাগেরই। এর ফলে সরাসরি দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে কর্মসংস্থানের অভাব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে সরকারের এই নীতি দেশ তথা দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।
এছাড়া নতুন শ্রম আইনে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দুর্বল করার পাশাপাশি এতোদিনের থেকে থাকা ধর্মঘটের অধিকারও খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন আইনে ৩০০ জনের কম শ্রমিক থাকা প্রতিষ্ঠান বনধ করতে এখন আর সরকারি অনুমতি লাগবে না যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশাল প্রশ্ন সৃষ্টি হয়ে গেছে। আবার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে গিয়ে কর্মচারীরা সহজে বনধ করতে পারবেন না। এখানে মনে রাখতে হবে দেশে ৯৩ শতাংশ মানুষই কিন্তু অপ্রচলিত ক্ষেত্রেই কাজ করেন, সংখ্যায় যারা কিনা প্রায় ৪০ কোটি। নতুন শ্রম আইনে তাদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ কার্যত দেশের শ্রম আইনের বাইরেই থাকছেন। সরকার শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করে, এমনকি সংসদেও কোনও আলোচনা না করে এই আইন প্রণয়ন করেছে। এদিন ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইণ্ডিয়ার (নর্থ ইস্ট রিজিয়ন) পক্ষ থেকে সরকারের এই শ্রমিক বিরোধী, অগণতান্ত্রিক নীতির নিন্দা করে দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে যথাযথ আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়।



