মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : এআইইউডিএফ দলের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী ও পাথারকান্দি বিধানসভা সমষ্টির প্রাক্তন সভাপতি হাজি আব্দুল বারী ওরফে হেলাল আর নেই। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ শিলচর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। প্রয়াত আব্দুল বারী হেলাল দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি কিছুদিন আগে মুম্বইয়ের টাটা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তবে সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাঁকে শিলচর ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা সাতদিন ধরে চিকিৎসা চলাকালীন আজ সকালে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আজ সকাল থেকেই আছিমগঞ্জের সাতঘরী এলাকায়, যা তাঁর নিজ গ্রাম, নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। এলাকায় শোকাহত মানুষজন একে একে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন। বিকেলে জানাজা সম্পন্ন করা হয়। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, তিন কন্যা, দুই ভ্রাতা, পাঁচ ভগিনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণমুগ্ধ শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, পরোপকারী ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ। দলীয় কাজের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে সর্বদা পাশে দাঁড়াতেন, যা তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সিদ্দেক আহমেদ, আজিজুর রহমান তালুকদার, আইনজীবী আব্দুর সবুর তাপাদার, অধ্যাপক শামসুদ্দিন, নববার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, হেলাল আহমেদ খান, অধ্যক্ষ নজমুল ইসলাম, সাহাবুল ইসলাম চৌধুরী পারুল, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল মালিক চৌধুরী, সিতাংশু দে, টিংকু গুপ্ত ও শিহাব উদ্দিন, শিক্ষক ফজলুর করিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মৃত্যুকালে তিনি এআইইউডিএফ দলের শ্রীভূমি জেলা কার্যকরী সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে দল ও এলাকায় যে অপূরণীয় ক্ষতি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে, প্রয়াতের স্মরণে পাথারকান্দি কলেজ অফ এডুকেশনে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ড. আইনুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত শোকসভায় প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। হাজি আব্দুল বারী হেলালের প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সমগ্র এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।



