বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : ‘ক্লিন এয়ার সিটিজেন ড্রাইভ ২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের উদ্যোগে ও টোয়োসা প্রাইভেট লিমিটেড এবং রাধামাধব কলেজ এনএসএস ইউনিটের যৌথ সহযোগিতায় রাধামাধব কলেজ অডিটোরিয়াম হলে ‘এনক্যাপ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল ১১-৩০ ঘটিকায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করা হয়েছে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন টোয়াসো প্রাইভেট লিমিটেডের টিম লিডার ক্ষিতিজ রাজ, লিডার ট্রেনার তথা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট সোনি কুমারী, আসাম পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অরবিন্দ দাস, শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের এনসিএপি-র নোডাল অফিসার দীপক কুমার পৌরেল, রাধামাধব কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী প্রমুখ।
এদিন অনুষ্ঠান শুরুতে ‘ক্লিন এয়ার সিটিজেন ড্রাইভ ২০২৬’ এর উপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন টোয়াসো প্রাইভেট লিমিটেডের টিম লিডার ক্ষিতিজ রাজ। তিনি জানান এই ড্রাইভটা শুরু হয়েছিল ২১ জানুয়ারি থেকে। বিভিন্ন কলেজে এই সেমিনার হবে এবং ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামের প্রথম অনুষ্ঠান রাধামাধব কলেজে আয়োজন করা হয়েছে। নিজের বক্তব্যে আসাম পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অরবিন্দ দাস বায়ূ প্রদুষণ এবং জল প্রদুষণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার বিষয়ে আলোচনা করেন । রাধামাধব কলেজ যে অঞ্চলে অবস্থিত এবং কি কি কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কিভাবে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে পারি সেই সম্পর্কে আলোকপাত করেন। বলেন, নালা নর্দমা সব সময় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে ছাত্রদেরকে সচেতন থাকতে হবে এবং দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে ছাত্রদের ও দায়িত্ব আছে । ছাত্ররা সচেতন থাকলে অভিভাবকদের সচেতন করতে পারবে এবং একই সঙ্গে নিজের এলাকা পরিস্কার রাখতে ছাত্রদের দায়িত্ব নিতে হবে।

এরপর লিডার ট্রেনার তথা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট সোনি কুমারী একটি টেকনিক্যাল সেশন নেন এবং এতে বায়ূ প্রদুষণের ফলে ঠান্ডার দিন কিভাবে দেশের বিভিন্ন মহানগরী এমনকি রাজধানী দিল্লি কিভাবে প্রদুষিত হচ্ছে তার ওপর আলোকপাত করেন । বায়ূ প্রদুষণের পিছনে কি কি কারণ রয়েছে এবং বিভিন্ন ধূলিকণা, ডাস্ট পার্টিকলগুলি কিভাবে স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে তার উপর আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, কিভাবে প্লাস্টিক বোতল, চিপস রেপার দিয়ে ইকোব্রিক্স বানানো যায় টোয়াসো প্রাইভেট লিমিটেড এর পক্ষ থেকে তার ওপর ডেমনস্ট্রেশন প্রদান করা হয়। মায়াবাকি প্ল্যান্টেশন কি এবং কীভাবে মায়াবাকি প্ল্যান্টেশন করা যায় ব্যাপারে আলোচনা করেন। যে সমস্ত কলেজ এক হাজারটা ইকোব্রিক্স তৈরি করতে সক্ষম হবে তাকে শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশন থেকে গ্রীন ক্যাম্পাসের সার্টিফিকেট প্রদান করে সম্মানিত করা হবে । সেমিনারে উপস্থিত ছাত্রদের উৎসাহিত করা হয় যে প্রতিটি কলেজ যাতে এক হাজারটা ইকোব্রিকস তৈরি করে এবং মায়াবাকি প্ল্যান্টেশন ড্রাইভে যাতে এগিয়ে আসে। উপস্থিত শিক্ষক ছাত্রছাত্রী একটি পিটিশনে সই করেন এবং এর জন্য উদ্যোক্তাদের তরফে একটি স্ক্যানার দেওয়া হয়।
তাছাড়া এদিন জানানো হয় ওয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে আগামীতে কলেজে মায়াবাকি প্ল্যান্টেশন করা এবং ছাত্রদের ইকো ব্রিক্স তৈরিতে উৎসাহিত করতে এধরণের আরও ড্রাইভ অনুষ্ঠিত হবে । রাধামাধব কলেজে এধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাধামাধব কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী।
এদিনের কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাধামাধব কলেজ এনএসএস ইউনিটের আহ্বায়ক ডঃ সি এইচ মণিকুমার সিংহ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশিস রায়, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ রুমা নাথ চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রাহুল শরনিয়া, এডুকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সন্তোষ বরা, ড. নবনিতা দেবনাথ, ড. পিয়া দাস, ড. আশিসতরু রায়, নম্রতা নাথ, সুরভি ঘোষ, পৌমিতা রায়, পারমিতা দে, বৈশালী চক্রবর্তী, রূপশ্রী নাথ, জুই নাথ, ড. সুমিতা বোস, অভিষেক দাস প্রমুখ।



