বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রিয়ারি : সাইরং-শিলচরন তুন রেল পরিষেবার উদ্বোধন হল। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভার্চুয়াল মাধ্যমে গুয়াহাটি থেকে নতুন রেল পরিষেবার উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে ‘ব্লেন্ডেড হসপিটালিটি সার্ভিস’-এরও সূচনা করা হয়।
এই উপলক্ষে সাইরং রেলওয়ে স্টেশনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন লালদোমা। অনুষ্ঠানে প্রফেসর লালনিলাওমা, পু বি. লালছানঝোভা এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও স্থানীয় বিধায়ক পু টিবিসি লালভেনছুঙ্গাও উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র মাধ্যমে মিজোরাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের উন্নয়নের গতিপথে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। একসময় প্রত্যন্ত হিসেবে বিবেচিত অঞ্চলগুলি এখন উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে। সাইরং–শিলচর রেল পরিষেবার সূচনা সেই অগ্রগতির এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

তিনি বলেন, নতুন এই রেল সংযোগ আসামের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে এবং মিজোরামের আদা-সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি রাজ্যের ‘বানা কাইহ’ প্রকল্পও এতে আরও শক্তিশালী হবে। সাইরাং–শিলচর রেল পরিষেবা চালু করার অনুরোধ মঞ্জুর করায় তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী শিলচরকে শুধু প্রতিবেশী শহর নয়, বরং মিজোরামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই নতুন রেল পরিষেবা রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও জানান, পাঁচ মাস আগে উদ্বোধন হওয়া সাইরং রেলওয়ে স্টেশন ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছে। রেল মন্ত্রক এবং এনএফ রেলওয়ের লুমডিং ডিভিশনের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী সাইরং রেলওয়ে স্টেশনে ‘হ্যান্ডহোল্ডিং স্কিম’ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় একটি গুদামঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি থেনজল পিস সিটি পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং দিল্লি–শিলচর রাজধানী এক্সপ্রেস সাইরাং পর্যন্ত বাড়ানোর দাবিও জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাইরং রেলওয়ে স্টেশনকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস রেলওয়ে স্টেশন’-এ উন্নীত করার নকশা পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রেল আধিকারিকরা জানান, এ প্রকল্পের জন্য ৯৭ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে, টেন্ডার জারি করা হয়েছে এবং আগামী মার্চ মাসে টেন্ডার খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্বে রেলের বিস্তার
নতুন পরিষেবা উদ্বোধনের সময় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, শিলচর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাইরঙের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় যাত্রীদের বড় সুবিধা হবে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য ১১ হাজার কোটিরও বেশি টাকার রেল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এই অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন। গত ১১ বছরে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে ১,৯০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে, যা পুরো শ্রীলঙ্কার রেল নেটওয়ার্কের চেয়েও বেশি।
এছাড়াও, গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে নতুন যাত্রী সুবিধার উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী, যার ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হয়। গুয়াহাটিতে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুই সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য ও কণাদ পুরকায়স্থ।



