দুর্ঘটনায় মৃত্যু স্ত্রী-শিশুপুত্রের, মর্গে দেহ রেখে শুনানিকেন্দ্রে শিক্ষক

৭ ফেব্রুয়ারি : দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রেখে শুনানিকেন্দ্রে ছুটলেন স্বামী। শুক্রবার এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা। শুনানির জন্য আসার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শোকগ্রস্ত মৃতের পরিবার বলছে, শুনানিতে ডাক না পড়লে হয়তো দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হত না।

মালদহের গাজোল থানার খড়দহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন আনসারি। কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক তিনি। কর্মসূত্রে সুজাপুরেই পরিবার নিয়ে থাকতেন ওই শিক্ষক। নামের বানান ভুল থাকায় শুক্রবার শুনানির ডাক পড়েছিল স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রীর। সেই কারণে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী হালিমা খাতুন এবং নয় মাসের পুত্রসন্তান আরিফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে বাস ধরবেন বলে টোটো করে আমবাজার আসছিলেন। ঠিক সেই সময় সুস্তানি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটো উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই হালিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। এবং হাসপাতালে আরিফ হাসানের মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্ত্রী ও সন্তানের দেহ শুক্রবার ময়নাতদন্ত বিভাগে রেখেই শুনানিকেন্দ্র ছুটতে হয় ইয়াসিন আনসারিকে।

মৃত হালিমা খাতুনের দাদা আব্দুর রহমান আনসারি বলেন, “আমার বোন ও জামাইবাবু শুনানির নোটিস পেয়ে আসছিল। টোটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। আমার বোনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। ভাগ্নের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। হিয়ারিংয়ে আসতে না হলে হয়তো আমার বোন, ভাগ্নে বেঁচে যেত। আমরা এখন মৃতদেহের জন্য অপেক্ষা করছি। আর জামাইবাবু শুনানিকেন্দ্রে রয়েছেন।” স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এভাবে স্ত্রী-পুত্রের দেহ মর্গে রেখে শুনানিকেন্দ্রে যেতে হল ওই শিক্ষককে। বিষয়টি মর্মান্তিক।
খবর : tv9 bangla.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *