বরাক তরঙ্গ, ৬ ফেব্রুয়ারি : মেঘালয়ের অন্তর্গত ক্লেরিয়াট থেকে প্রায় ৯০ কি.মি. দূরে থাংকসু এলাকায় কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক নিহত ও শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এমন ভয়ঙ্কর ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সিপিএমের কাছাড় জেলা কমিটি ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে এআইইউটিইউসি অসম রাজ্য কমিটি। শুক্রবার সিপিএম ও এআইইউটিইউসি পৃথক পৃথক প্রেস বার্তায় শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সিপিএম এই ঘটনায় মেঘালয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ই দায়ী বলে মনে করে। কেননা মেঘালয় রাজ্য সহ অন্যান্য রাজ্যে অবৈধ কয়লা খনন চলে আসা সত্বেও সরকারের সঠিক সময় নিরাপত্তা জনিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। শ্রমিকরা অসহায়ভাসবে প্রাণ হারাচ্ছেন। এক্ষেত্রে জিলোটিন স্টিক এর অবৈধ ব্যবহারের জন্য শ্রমিকদের বাধ্য করানোর ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এই নিহত ও আহত শ্রমিকদের এক বৃহৎঅংশ বরাক উপত্যকার আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষ। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, অবৈধ কয়লা খনন অবিলম্বে বন্ধ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানায় সিপিএম।
এ দিকে, এআইইউটিইউসি অসম রাজ্য কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩০ জন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং শত শত শ্রমিক এখনও খনিতে আটকা পড়ে রয়েছে। আসামের অনেক শ্রমিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন। ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, এই জায়গাগুলির কয়লা খনিগুলিতে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চোখের সামনেই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং সরকারি নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করে তা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এভাবে মারা যাচ্ছে। AIUTUC অসম রাজ্য কমিটি এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা না করে শ্রমিকদের অসুরক্ষিত পরিবেশে কয়লা খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির প্রদান করতে হবে। AIUTUC কয়লা খনিগুলিতে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি অসম সরকারকে এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার জন্যও দায়ী করে বলে ভিন রাজ্যে শ্রমিকদের মৃত্যু নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার দ্রুত করা, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং প্রতিটি মৃত শ্রমিকের নিকটাত্মীয়দের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে।



