দারুল উলুম বাঁশকান্দির বার্ষিক মহফিলে জনসমুদ্র, জাতীয় সড়কে তীব্র যানজট

আগামীতে আর ‘খতমে বুখারি’ মহফিল হচ্ছে না, ঘোষণা_____

কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১ ফেব্রুয়ারি : বাঁশকান্দি দারুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক মহফিল ও দস্তারবন্দি অনুষ্ঠান উপলক্ষে রবিবার বৃহত্তর বাঁশকান্দি এলাকা জনজোয়ারে ভেসে যায়। বিপুল জনসমাগমের কারণে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হয়, ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়।

ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই ছোট-বড় হাজার হাজার যানবাহনে করে অগণিত মানুষের আগমন ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মহফিলে অংশগ্রহণ করেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে যথেষ্ট তৎপরতা চালাতে হয়। তবে এত বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার শাইখুল জামিয়া ও মহতামিম, উত্তর-পূর্ব ভারতের আমিরে শরিয়ত মওলানা শেখ ইয়াহইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরস্থিত মাজাহিরুল উলুমের শাইখুল হাদিস মওলানা মকসুদ আহমদ মাজাহিরি।

দীর্ঘদিন ধরে ‘খতমে বুখারি’ নামে পরিচিত এই বার্ষিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মাদ্রাসার শাইখুল জামিয়া মওলানা শেখ ইয়াহইয়া জানান, আগামী বছর থেকে ‘খতমে বুখারি’ নামে আর কোনও মহফিল আয়োজন করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে শুরা কমিটির সদস্য মওলানা আব্দুল কাদির বলেন, শুরা কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর শরিয়তসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাদ্রাসার বার্ষিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে না; বরং নতুন ও ভিন্ন আঙ্গিকে এমনভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হন এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সড়কে যানজটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জমিয়ত উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ মওলানা বদরুদ্দিন আজমল মুসলিম সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী ও এসআর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মুসলিম সমাজকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তবে তিনি কোনও সরকারবিরোধী মন্তব্য না করে সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসারে জোর দেন।

মাদ্রাসার শাইখুল জামিয়া মওলানা শেখ ইয়াহইয়া অভিভাবকদের উদ্দেশে ধর্মীয় ও জাগতিক—উভয় শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করার আহ্বান জানান এবং শরিয়তের পথে জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী ও এসআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস। তিনি আইনি জটিলতা ও তা মোকাবিলার উপায় ব্যাখ্যা করেন।

এছাড়াও মহফিলে বক্তব্য রাখেন মওলানা লোকমান কাসিম, মওলানা রশিদ আহমদ, মুফতি আব্দুল হেকিম, মওলানা ফয়জুল হক রাজবড়ভূইয়া, মওলানা সরাফত আলি, আইনজীবী আব্দুল সবুর তাপাদার প্রমুখ।

দস্তারবন্দি অনুষ্ঠানে মোট ৯০ জন ছাত্রকে পাগড়ি ও সনদ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৩৫০ জনেরও বেশি ছাত্রকে পুরস্কৃত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *