বরাক তরঙ্গ, ১ ফেব্রুয়ারি : বেঙ্গালুরুর হোসকোট তালুকের মুথসান্দ্রা গ্রামে একটি ভাড়া করা ঘরে অসমের চার যুবকের মৃত্যু পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া বা শ্বাসরোধের কারণে দুর্ঘটনাজনিত বলে সন্দেহ করছে। তবে পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে তারা ঘরের ভিতর রান্না করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। রান্নার পর দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে কাজে না যাওয়ায় অন্য শ্রমিকরা চিন্তিত হয়ে ঘরের জানালা দিয়ে দেখেন যে চারজনই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘরটি তালাবন্ধ ছিল এবং ভিতরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এটাকে সাধারণ দুর্ঘটনা মানতে রাজি নন এবং কোনও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিক হওয়া কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বা চুলার ধোঁয়া জমে শ্বাসরোধ হয়েছে। কোনও বাহ্যিক আঘাত বা হত্যাকাণ্ডের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হবে।
মৃত যুবকরা হলেন লখিমপুর জেলার মিসিং সম্প্রদায়ের জয়ন্ত সিন্তে খাগেশ্বর (২৫), নরেন্দ্রনাথ টাইড (২৪), ডক্টর টাইড (২৫) ও ধনঞ্জয় টাইড (২০)। তারা লখিমপুর জেলার বরখাপাড়া, ঢাকুয়াখানা ও বরসামুখ এলাকার বাসিন্দা। কাজের সন্ধানে তারা বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় একটি কোকা-কোলা ওয়্যারহাউসে লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা ওই ওয়্যারহাউসের কাছাকাছি মুথসান্দ্রা গ্রামের একটি লেবার শেডে একসঙ্গে থাকতেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে আসে।



