বরাক তরঙ্গ, ১ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। তাই বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানকল্পে সরকারি উদ্যোগ, যার ভিত্তিতে ভোটাররা পরবর্তী সরকার নির্বাচন করবেন তা মনে করিয়ে এই ব্যাপারে শাসকদলের অবস্থান জানতে চাইল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, আগামী নির্বাচনের পরই বর্ষার মরশুম শুরু হবে। ফলে আবার বন্যার সমস্যা ও যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে নাজেহাল হবার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে বরাকবাসীর। তিনি বলেন, ২০২২ এর প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর রাঙ্গিরখাল সহ শহর শিলচর ও করিমগঞ্জের খালগুলির সংস্কারের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন অবধি মাত্র ত্রিশ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় কিছু জায়গায় গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ছে। এছাড়া নদীবাঁধ তথা অকেজো স্লুইস গেটগুলো পরিবর্তনে সরকারি ভূমিকা মোটেই আশাপ্রদ নয়। নমামি বরাকের সময় বরাক নদী খননের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল সদিচ্ছার অভাবে তাতে তামাদি পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্ষার মরশুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়া এই উপত্যকার বাৎসরিক ঘটনা। অথচ বিকল্প কোন ব্যাবস্থা গ্রহনে এযাবৎ ব্যর্থ সরকার। তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা রেললাইনের কাজ শেষ করা জরুরী ছিল, অথচ সেই কাজ শুরুই হয়নি। পাঁচগ্রাম থেকে বড়াপানি অবধি যে ছয় লেনের সড়কের কথা প্রচার করা হল তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীই কোন আশ্বাস দিতে পারেননি। দীর্ঘ বাইশ বছর অপেক্ষার পর হয়তো মহাসড়কের কাজ জোড়াতালি দিয়ে শেষ হবে, কিন্তু ধ্বসপ্রবন ডিমা হাসাও জেলায় বর্ষার সময় তা কতটা কার্যকরী থাকবে তাঁতে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু শিলচর একটি প্রান্তীয়, অনুন্নত শহর তাই বিডিএফ এর পক্ষ থেকে শিলচর-গুয়াহাটি ও শিলচর-কলকাতা বিমান পরিষেবাকে কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান প্রকল্পের আওতায় এনে বিমানভাড়া সাধারণ যাত্রীদের নাগালে রাখার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি সরকার। উল্টে শিলচর, আগরতলা বিমানপথে এমন একটি পরিষেবা চালু করা হয়েছে,যা মোটেই ততটা প্রয়োজনীয় নয়। শিলচর ইম্ফলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবাও বন্ধ। এছাড়া সংস্কারের পরও বদরপুরের গ্যামন সেতুর ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বরাকবাসী।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন, বন্যা এবং যোগাযোগ এই দুইটি সমস্যার সমাধান না হলে বরাক উপত্যকার প্রকৃত উন্নয়ন যে কখনই সম্ভব নয় এই ব্যাপারে নিশ্চিত বিডিএফ।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন আরও বলেন, শিলচরের প্রস্তাবিত এলিভেটেড করিডরের এখনো শিলান্যাস হয়নি। কাছাড় জেলায় প্রস্তাবিত মাল্টি মডেল লজিস্টিক পার্ক প্রকল্প নিয়ে সরকারের যে কোন সদিচ্ছা নয় তা স্পষ্ট। বিজেপির ২০২৫ অব্দি ভিশন ডকুমেন্টে শিলচর ও ডিব্রুগড়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ডিব্রুগড়ে বেঞ্চ স্থাপনের কথা মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু শিলচরের ব্যাপারে কোন হেলদোল নেই। তিনি এও বলেন, ইদানিং ডিব্রুগড় শহরকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং গুয়াহাটি থেকে বহু দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও শিলচর নিয়ে এমন কোন ভাবনা সরকারের আছে বলে বোঝা যায়নি, এমনকি মিনি সচিবালয়ের কাজও এখনও শেষ হয়নি।



