অসম কলেজ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সুবর্ণ জয়ন্তী সমারোহ শিলচরে____
বরাক তরঙ্গ, ৩১ জানুয়ারি : সারা আসাম কলেজ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন বরাক ভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির তিন দিবসীয় সুবর্ণজয়ন্তী সমারোহ শিলচর মহিলা মহাবিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে। শনিবার সুবর্ণ জয়ন্তী সমারোহ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন সংস্থার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে মহিলা মহাবিদ্যালয়ের স্থায়ী শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ বলিদান দেওয়া বরাকের এগারো জন ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে প্রয়াত লোকশিল্পী কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য ও আসামের প্রখ্যাত শিল্পী জুবিন গার্গের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাদের প্রতিও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন আমন্ত্রিত অতিথি সহ সংস্থার সদস্যরা।
এদিন প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সূচনা করেন গুরুচরণ রাজ্যিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায় সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায় সুবর্ণজয়ন্তী সমারোহের সফলতা কামনা করেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুন্দর ভাবে গড়ে উঠে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে বাগানটা তৈরি করা হয় সেটা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী উভয়ের সমন্বয়ে তৈরী হয় এবং ছাত্ররা এসে সেটা উপভোগ করে এবং তাদের জীবন গড়ে তুলে সুদক্ষ নাগরিক হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। উপাচার্য নিরঞ্জন রায় বলেন বহুক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষাকর্মী যারা রয়েছেন তাদের অবদানটা অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তারা অদৃশ্যের মতো নিরবে কাজ করে। এই জায়গায় আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বর্তমানে যে রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি এসেছে এতে মহাবিদ্যালয় তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এদিকে, নিজের বক্তব্যে উইমেন্স কলেজ শিলচরের অধ্যক্ষ ড. সুজিত তেওয়ারী বলেন, অ-শিক্ষক কর্মচারীরা কলেজ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড—তাঁদের ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম অচল। ভর্তি, পরীক্ষা, প্রশাসন, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অফিস পরিচালনায় অ-শিক্ষক কর্মচারীদের অবদানকে নীরব কিন্তু অপরিহার্য সেবা হিসেবে উল্লেখ করেন। আসাম কলেজ শিক্ষক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, দাবি মানে সংঘাত নয়, দাবি মানে আত্মমর্যাদা। অল আসাম নন-টিচিং কলেজ এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনকে তিনি একটি সংগঠন নয়, একটি চেতনা হিসেবে অভিহিত করেন। পঞ্চাশ বছরের সংগ্রামী যাত্রায় সংগঠনের ধৈর্য, শালীনতা ও ঐক্যের প্রশংসা করেন অধ্যক্ষ।
এদিকে বর্তমান উচ্চ শিক্ষা সঞ্চালকের কার্য্যালয়ে ই-ফাইল এর মাধ্যমে মহাবিদ্যালয়গুলির নিযুক্তি, প্রমোশন, পে-নির্ধারণ, পেনশন ইত্যাদি সম্পন্ন হওয়ায় সারা আসাম কলেজ কর্মচারী সংস্থা সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান সারা আসাম কলেজ কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে তুলসী শইকিয়া ও গৌতম গগৈ ।

এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সারা আসাম কলেজ কর্মচারী সংস্থার বরাক ভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে বিশ্বজিৎ দে ও অজয়কুমার দাস, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রদুষ কিরণ নাথ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুপ্রবীর দত্তরায়, গুরুচরণ রাজ্যিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর বিদ্যুৎ পাল ও অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার অভিজিৎ নাথ, সিডিসি চন্দন পাল, আসাম কলেজ লাইব্রেরিয়ান অ্যাসোশিয়েশনের রাজ্য সহ-সভানেত্রী ড. সোনালি চৌধুরী, শিলচর মহিলা কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি বুদ্ধদেব চৌধুরী, কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতীম নাগ, জয়দীপ পাল সহ অন্যান্যরা। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন ড. স্মরণজিৎ সিংহ ও দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আগামীকাল সুবর্ণ জয়ন্তী সমারোহের অন্তিম দিন এবং এতে বরাক উপত্যকার সকল কলেজ কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত ভাবে কামনা করা হয়েছে সংস্থার তরফে। শনিবার শিলচরে সংস্থার বরাক ভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির পক্ষে কমলেশ দাশ এক প্রেস বার্তায় এ খবর জানিয়েছেন।



