বরাক তরঙ্গ, ৩১ জানুয়ারি : ধলাই কেন্দ্রের যুব কংগ্রেস ও পালংঘাট ব্লক যুব কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে মোহনখাল এলাকায় শনিবার আয়োজিত হয় এক প্রতিবাদী কর্মসূচি। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আমরাঘাট বাজার পয়েন্ট থেকে রামমানিকপুর পর্যন্ত অর্থাৎ ভুবনখাল, মোহনখাল ও নাগাখাল হয়ে যাওয়া এই সড়কটি প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় নির্মিত হলেও বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে রোগী, গর্ভবতী মহিলা, স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের নিত্যযাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, যান চলাচলের সময় তীব্র ঝাঁকুনি এবং বর্ষাকালে জল জমে পথটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয় বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এদিনের কর্মসূচি শেষে যুব কংগ্রেস নেতৃত্বের উদ্যোগে স্থানীয় নাগরিকদের গণস্বাক্ষরযুক্ত এক স্মারকলিপি পূর্ত সড়ক বিভাগ, সোনাই ও ধলাই অঞ্চলভিত্তিক সড়ক সংমণ্ডলের ধলাই কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন কার্যবাহী প্রকৌশলী বানাজিত অধিকারী। যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সড়কের করুণ অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতার বিষয়টি তুলে ধরা হলে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

একই দিনে যুব কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল ধলাই সমজেলা সহযোগী কমিশনার প্রবীণ মাহাত্ম এসিএস-এর কাছেও স্মারকলিপির প্রতিলিপি প্রদান করে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে। তাদের অভিযোগ, ভারী যান চলাচল ও দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি বর্তমানে চরম ভগ্নদশায় পৌঁছেছে, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ধলাই সমষ্টি যুব কংগ্রেস সভাপতি শুভাশিস দেব, পালংঘাট ব্লক যুব কংগ্রেস সভাপতি সাহান উদ্দিন লস্কর, অমলকান্তি দাস, মনির হোসেন লস্কর এবং সেবা দলের সভাপতি জুবায়ের হোসেন মজুমদারসহ অন্যান্য যুব কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ। যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, জনস্বার্থে উক্ত সড়কের পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ ও মানসম্মত উন্নয়নের কাজ অবিলম্বে শুরু না হলে তারা আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে, বেহাল এই গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের দাবিতে যুব কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে বরাক ভ্যালি উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য এবং ধলাইয়ের বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ও কার্যকর সরকারি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতার ফলে বহু প্রতীক্ষিত সড়ক সংস্কার শীঘ্রই বাস্তবে রূপ পাবে।



