গণ্ডাছড়ার জঙ্গলে মানব কঙ্কাল উদ্ধার, চাঞ্চল্য

বরাক তরঙ্গ, ২৯ জানুয়ারি : ত্রিপুরার ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়। গণ্ডাছড়ার উত্তর হরিপুর এডিসি ভিলেজ সংলগ্ন ঘন জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার হল মানুষের কঙ্কাল। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও কৌতূহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা নাগাদ উত্তর হরিপুর গ্রামের এক গো-পালক প্রতিদিনের মতো নিজের কয়েকটি গরু নিয়ে হরিপুরের মূল সড়ক থেকে কয়েকশ মিটার ভেতরে জঙ্গলের দিকে যান গরু চরাতে। জঙ্গলের গভীরে ঢুকতেই হঠাৎ একটি বড় গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মানুষের আকৃতির একটি কঙ্কাল নজরে আসে তাঁর। দৃশ্যটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি এবং তড়িঘড়ি করে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করে স্থানীয় মানুষজন। উৎসুক জনতার ভিড়ে এলাকা হয়ে ওঠে উত্তেজনাপূর্ণ। পরে বিষয়টি গণ্ডাছড়া থানায় জানানো হলে, দ্রুত দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান থানার ওসি অসীম সরকার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয় এবং কঙ্কালটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রসঙ্গে গণ্ডাছড়া থানার ওসি অসীম সরকার জানান, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর হরিপুরের বারোকার্ড এলাকার বাসিন্দা সূর্যমোহন দাস নিখোঁজ হয়েছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া মানব কঙ্কালটি নিখোঁজ সূর্যমোহন দাসেরই হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সেই অনুযায়ী পুলিশ কঙ্কালটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ফরেনসিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে আত্মহত্যা না কি অন্য কোনো রহস্যজনক ঘটনা জড়িয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে মৃত্যুর সময়কাল, পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *