রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ জানুয়ারি : কাছাড় জেলার ধলাই থানা অধীন ভাগাবাজার এলাকার বনগ্রাম থেকে চুরি হওয়া একটি Yamaha R15 মোটরসাইকেল বাংলাদেশে পাচার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে চুরির সঙ্গে জড়িত তিন অভিযুক্তকে আটক করে ধলাই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি ভোররাত আনুমানিক ৪টা নাগাদ বনগ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন লস্কর (শিপ্পু)-এর বাড়ির সামনে থেকে একটি সাদা রঙের Yamaha R15 মোটরসাইকেল চুরি হয়। চুরির পুরো ঘটনা বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা তিন যুবক বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার দিনই নাজিম উদ্দিন ধলাই থানায় মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাইকের ছবি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে বাইকটি উদ্ধারের আবেদন জানান।
এরপর গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ থেকে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে, চুরি হওয়া বাইকটি বাংলাদেশে পৌঁছে গিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে সে একটি ছবি পাঠায়, যেখানে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন যুবককে দেখা যায়। ছবির সূত্র ধরে প্রথমে একজনকে শনাক্ত করা হয়। সে শ্যামাচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আজমল হোসেন (টিপ্পু)। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আজমল চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে বাকি দুই অভিযুক্তকে শ্রীভূমি জেলার পাতারকান্দি থানা এলাকার সাউথ কিউটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। তারা হল কাবিল হোসেন ও সাদির আহমদ।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানায়, চুরি করা মোটরসাইকেলটি তারা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাতারকান্দির এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে এবং সেই ব্যক্তি বাইকটি বাংলাদেশে পাচার করে দেয়। পরবর্তীতে রাতে তিন অভিযুক্তকে ধলাই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ধলাই থানায় একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে কীভাবে মোটরসাইকেলটি বাংলাদেশে পৌঁছাল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তপথে বাইক পাচারের বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।



