বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : বরাক উপত্যকার ব্যতিক্রমী সামাজিক সংগঠন সোসাইটি ফর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিটিজ (সেওয়া) মানবসেবার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল সোসাইটিকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ক্যান্সার হাসপাতালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অনুদানের অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয় হাসপাতালের ডিরেক্টর ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ রবি কান্নানের হাতে। অনুষ্ঠানে সমাজের দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ক্যান্সার রোগীদের জন্য নিরলস ও মানবিক সেবা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডাঃ রবি কান্নানকে সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তরীয়,পশমী চাদর ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হয়। পাশাপাশি, সমাজের অসহায় ও রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্যান্সার হাসপাতাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠালগ্নের সদস্য কল্যাণকুমার চক্রবর্তীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা গ্রহণ করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডাঃ রবি কান্নান সোসাইটি ফর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিটিজের সমাজমুখী কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই ক্যান্সারের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি। সংগঠনের এই আর্থিক সহায়তা দরিদ্র ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংগঠনের সদস্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইন্তিকাব আলম মানবসেবার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ঘোষণা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল সোসাইটিকে আরও একলক্ষ টাকা দান করবেন। তাঁর এই ঘোষণাকে উপস্থিত সকলেই উষ্ণ করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি তমিজুল হক চৌধুরী, সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল করিম বড়ভূইয়া, সদস্য যথাক্রমে ড. আমিনুল ইসলাম লস্কর, ড. নজমুল ইসলাম বড়ভূইয়া, জিএম মহবুবব আহমদ বড়ভূইয়া, ড. বাহারুল ইসলাম লস্কর, নাসির উদ্দিন লস্কর। অনুষ্ঠানের শেষদিকে উপস্থিত হন দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ সম্পাদক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার সদস্য মিলন উদ্দিন লস্কর। সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। মানবসেবার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।



