পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আবহে জননেতা ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক পরিতোষ পাল চৌধুরীর ৯৩তম জন্মদিন শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল শিলচরে। সোমবার সুভাষ নগরে ভাষা সেনানী পরিতোষ পাল চৌধুরী স্মৃতি পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই স্মরণানুষ্ঠান।
পর্ষদের সভাপতি ড. হারাণ দে-র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করেন উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব পাল চৌধুরী বলেন, বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন পরিতোষ পাল চৌধুরী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেই অবদান যথাযথভাবে স্মরণ ও মূল্যায়িত হচ্ছে না। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রেই তা বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে হারাণ দে বলেন, বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার সরকারি স্বীকৃতি ও একাদশ শহীদের আত্মবলিদানের কথা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পরিতোষ পাল চৌধুরী নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেলেও বাস্তবে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার ক্রমশ কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হিন্দি ভাষাকে ঢাল বানিয়ে বাংলা ভাষাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনাবিরোধী। এই প্রবণতা বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সরকারি স্তরে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
কবি কস্তোরি হোম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে পরিতোষ পাল চৌধুরী নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আজকের প্রজন্মের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি সব স্তরে বাংলা ভাষার বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে প্রয়াত ভাষাসৈনিকের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন শ্রাবনী সরকার, যা উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও ভাষা চেতনার আবহ সৃষ্টি করে। এদিনের অনুষ্ঠানে কবি প্রনব কান্তি দাস ,জয় রায়, পম্পা পাল চৌধুরী এবং অগ্রনী ক্লাবের সভাপতি সুবীর ভট্টাচার্য ও সম্পাদক শঙ্কর দাস ছাড়াও স্মৃতি পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিক, সাহিত্যপ্রেমী ও ভাষা আন্দোলনের সমর্থকেরা উপস্থিত থেকে পরিতোষ পাল চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।



