সপ্তাহে পাঁচদিন কাজের দাবিতে ধর্মঘট ব্যাঙ্ককর্মীদের

বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিলচরেও ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের উদ্যোগে ব্যাঙ্ককর্মীরা সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে ধর্মঘট পালন করেন। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক পাঁচদিন কাজের দাবিতে কর্মীরা নিজেদের ব্যাঙ্কের সামনে জমায়েত করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হোন। নিজেদের দাবির পক্ষে বলতে গিয়ে ব্যাঙ্ক কর্মীরা বলেন, সরকারের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ থেকে শুরু করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, স্টক মার্কেট, বীমা ক্ষেত্রে সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করা হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত দেশে বহু আগে থেকেই সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের ব্যবস্থা চলে আসছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্স, জাপানের মতো দেশে চার দিন ব্যাংকিং এর দাবি উঠতে শুরু করেছে। আমাদের দেশের ব্যাঙ্ক কর্মীরাও বহু বছর থেকেই পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের দাবি করে আসছেন।

সরকার ২০১৭ থেকে এই ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে আসছে কিন্তু কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যুক্তি দেখানো হচ্ছে। অথচ এই সময়ের মধ্যেই ব্যাঙ্কগুলোতে অনেক প্রযুক্তিগত উন্নতি করে ফেলেছে। নীতি আয়োগের পক্ষ থেকে ‘ব্যাংকলেস ব্যাংকিং’ এর কথা বলা হচ্ছে। সরকার একই যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা বৃদ্ধি করছে না। কর্মী সংকোচন করা হচ্ছে। আবার কর্মীদের ছুটি বাড়ানোর বেলায় জনগণের স্বার্থক্ষুন্ন হওয়ার কথা বলছে। সরকার অধিকাংশ আর্থ-সামাজিক প্রকল্প ব্যাংক ও ব্যঙ্ককর্মীদের মাধ্যমেই পরিচালনা করে। ব্যবসায়িক চাপ ছাড়াও সরকার কাজের অতিরিক্ত চাপও ব্যাংককর্মীদের নিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে ব্যাঙ্ককর্মীদের মধ্যে চাকরি ছাড়ার বা মানসিক দিক থেকে ভারাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। সরকারের কাছে সব তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এরপরেও ব্যাঙ্ককর্মীরা সরকারের কাছে মাসে অতিরিক্ত দুই দিন ব্যাংক বন্ধ রাখার পরিবর্তে বাকি দিনগুলোতে কাজের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সরকার প্রাথমিক অবস্থায় সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলেও পরবর্তীতে বাস্তবায়নের পথে যায়নি। সরকারের এই নীতি বদল যদি না হয় আগামীতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নের অধীনে কর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন বলে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *