২৭ জানুয়ারি : গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে। সোমবার সন্ধ্যার পর আরও একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও বহু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, নাজিরাবাদের দু’টি গুদামে আগুন লেগে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, তাঁদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে গুদামের ভিতরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন লাগার পর থেকেই নিখোঁজ ২০ জন শ্রমিক। ওই ২০ জনের নামে নিখোঁজের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ বলে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা গিয়েছে। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক এমন ঘটনার খবরে রীতিমতো আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শুরু হয় তৎপরতা। প্রায় দিনভর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে সমস্ত রকমের সহযোগিতার বার্তা দিয়ে এসেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, এছাড়াও নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি সহ মোট ১৩ জন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রবিবার রাতে কারখানায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দমকলে খবর দেন। দ্রুত ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কিছুই করে উঠতে পারছিলেন না কেউ। ভোরের দিকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, নিখোঁজ ছয় কর্মীর পরিবারের লোকজন জানান, তাঁরা ফোনে পাচ্ছেন না কাউকে। একজনের ফোন বেজে যাচ্ছে। তিনি ধরছেন না। ভিতরে আটকে আছেন না পালিয়ে গেছেন আগুন লাগার সময়, তা বোঝা যাচ্ছে না।



