বরাক তরঙ্গ, ২৩ জানুয়ারি : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র ১৩০তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় শিলচর গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানে। শুক্রবার সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গান্ধীবাগে অস্থায়ী ভাবে স্থাপিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয় গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে।।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শান্তনু দাস, উপদেষ্টা নীহাররঞ্জন পাল, হরিদাস দত্ত পীযুষকান্তি চক্রবর্তী, সুগত পাল, অতনু চৌধুরী, চন্দনা দে ও সম্পাদক অশোককুমার দেব। এরপর উপস্থিত সবাই একে কার্যালয়ের নেতাজি প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।
স্বাগত বক্তব্যে সম্পাদক অশোককুমার দেব গান্ধীজির আদর্শে গঠিত শিলচর গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে এর স্থপতিদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি জানান, শিলচর গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠান জন্মলগ্ন থেকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র দেশপ্রেমের চেতনাকে কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে প্রতিবছরই ২৩ জানুয়ারি দিবসটি পালন করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা নেতাজি গবেষক নীহাররঞ্জন পাল তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের কীর্তিগাথার বর্ণনায় জানান যে স্বাধীনতার সংকল্প নিয়ে দেশ ছেড়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পেশোয়ার-কাবুল-মস্কো হয়ে জার্মানিতে পৌঁছে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন নেতাজি। এরপর পূর্ব এশিয়া থেকে মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসু’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসের বিপদসঙ্কুল সাবমেরিন যাত্রা অতিক্রম করে সুমাত্রার সাবাং বন্দরে উপনীত হন। ৪ জুলাই ১৯৪৩ সিঙ্গাপুরের ক্যাথে হলে রাসবিহারী বসুর কাছ থেকে পূর্ব এশিয়ার আজাদ হিন্দ সঙ্ঘ ও আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি। এরপর আজাদ হিন্দ ফৌজের মধ্যে শুধুমাত্র মহিলাদের নিয়ে একটি অভূতপূর্ব রেজিমেন্ট গড়ে তোলেন নেতাজি। এর নামকরণ করেন ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরাঙ্গনা শহিদ ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ-এর নামে। নীহারবাবু বলেন, কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নেতাজি বিপ্লবী চেতনায় সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশ ছাড়লেও জাতীয় নেতাদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা মোটেই কম হয়নি। তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রথম যে তিনটি ব্রিগেড গড়ে তুলেছিলেন সেগুলির নামকরণ করেছিলেন, গান্ধী ব্রিগেড, নেহরু ব্রিগেড ও আজাদ ব্রিগেড। এমনকি নেতাজি যে অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেছিলেন সেই সরকারের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডারে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবরও ছুটির দিন হিসেবে গণ্য ছিল। এ বছর নেতাজি জন্মদিবস ও সরস্বতী পূজা একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্রিটিশ কারাগারে নেতাজির সরস্বতী পূজা আয়োজনের ইতিহাস তুলে ধরে ব্যক্তিগত জীবনে নেতজির ধর্মপ্রাণতা সম্পূর্ণ রাজনীতি বিবর্জিত বলে উল্লেখ করেন নীহারবাবু।
সভাপতির বক্তব্যে শান্তনু দাস তাঁর প্রয়াত বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী সরোজকুমার দাসের শেষ বয়সের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করে বলেন, ভারতের স্বাধীনতা অবশ্যই সহিংস এবং অহিংস উভয় ধারাতে সংঘটিত আন্দোলনের যৌথ ফসল। অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন, অতনু চৌধুরী, হরিদাস দত্ত ও পীযূষকান্তি চক্রবর্তী। সমাপ্তি সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাপী রায়।



