প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ, নিজস্ব অর্থে রাস্তা সংস্কার

দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জানুয়ারি : ধলাই বিধানসভা সমষ্টির অন্তর্গত পালংঘাট ব্লকের রূকনি ইস্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের দশ নম্বর গ্রুপে শনিবার এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় জনসাধারণ। গত উপনির্বাচনের সময় কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েও বাস্তবে রূপায়িত করে দেখালেন।

উল্লেখ্য, উপনির্বাচনের প্রচারকালে ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে রূকনি প্রথম খণ্ড গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা রাস্তাটি সংস্কার করে দেবেন। যদিও তিনি শাসক দলের প্রার্থীর কাছে নির্বাচনে পরাজিত হন, তবুও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি ভুলে যাননি। শনিবার তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে ওই রাস্তার সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। রাস্তা সংস্কারের খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষজন একত্রিত হন এবং ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থকে সাধুবাদ জানান। এলাকাবাসীর মতে, নির্বাচনে জয়ী না হয়েও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেভাবে নিজের কথা রেখেছেন, তা বর্তমান সময়ে বিরল দৃষ্টান্ত।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয়রা বর্তমান শাসক দলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, গত উপনির্বাচনে শাসক দলের প্রার্থী জয়ী হলেও গত দেড় বছরে আজ পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের বিধায়ককে বাস্তবে এলাকায় দেখতে পাননি। স্থানীয়দের দাবি, বিধায়ককে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই দেখা যায়, কিন্তু রূকনি প্রথম খণ্ড গ্রামে তিনি একবারও আসেননি।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, “আমরা কি বিজেপিকে ভোট দিইনি? প্রমাণ করতে হলে একবার ভোটের বাক্স খুলে দেখুন—আমরা কতটা ভোট দিয়েছি।” তাঁদের অভিযোগ, ভোট দেওয়ার পরও তাঁরা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। স্থানীয়রা আরও বলেন, বর্তমান বিধায়ক ১০৮টি কাজ করেছেন বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। “যেখানেই খবর পান, সেখানে নাকি তিনি চলে যান—কিন্তু দু’দিন আগে আমাদের গ্রামে একটি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল, সেই ঘটনায় তিনি একবারও আসেননি,” বলেন তাঁরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই গ্রামেই শাসক দলের ভোট কমিটির প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি থাকলেও ঘটনাস্থলে বিধায়ক বা তাঁর পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রকাশ্যে জানান, আগামী নির্বাচনে তাঁরা কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা জানিয়ে বর্তমান বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাসের কাছে একাধিকবার লিখিত মেমোরেন্ডাম জমা দেওয়া হয়েছে এবং মৌখিকভাবেও বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি একবারও রাস্তার পরিস্থিতি সরেজমিনে এসে দেখেননি। রাস্তা সংস্কার কাজ উপলক্ষে এলাকায় উপস্থিত ছিলেন শাসক দলের ভোট কমিটির সভাপতি জামাল হোসেন লস্কর, সেলিম উদ্দিন লস্কর, মিনার হোসেন লস্কর, শরফ উদ্দিন লস্কর, আইনুল হক লস্কর, শামসুদ্দিন তালুকদার, রিতা রায়, রফিক উদ্দিন তালুকদারসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দা।

সব মিলিয়ে, রুকনি ইস্ট জিপির দশ নম্বর গ্রুপে ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার এই ঘটনা এলাকাবাসীর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *