বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে মাতৃভূমি ও হিন্দু ঐক্যের বার্তা হিন্দু সম্মেলনে

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জানুয়ারি : ‘বন্দেমাতরম’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ১০০ বছর উপলক্ষে সমাজ ও রাষ্ট্র জাগরণের লক্ষ্যে শিলচর শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিবাহ ভবনে রবিবার হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে রাষ্ট্রকে দেবতারূপে গ্রহণ ও সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনের শুরুতে গণেশ বন্দনা, ভারত মাতার পূজা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর অতিথি সংবর্ধনা, স্বাগত ভাষণ ও বৌদ্ধিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণসিন্ধুজী মহারাজ, জ্যোৎস্নাময় চক্রবর্তী, পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল ও গোপাল ভট্টাচার্য। তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার বহু বছর পরও সমাজের একাংশ রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ আসনে স্থাপন করতে পারেনি। রাষ্ট্র-দেবতার পুনর্জাগরণ এবং ‘হিন্দু হৃদয় মন্দির’ গঠনের মাধ্যমে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তৃতায় সাম্প্রতিক বাংলাদেশের একটি নৃশংস ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনা মাতৃভূমির গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। বক্তাদের মতে, নিজস্ব মাতৃভূমি ও ঐক্য না থাকলে সমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

সম্মেলনের অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে ছিল সমবেত ‘বন্দেমাতরম’ গান, সঙ্গীতাঞ্জলি ও ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য। পাশাপাশি সমাজসেবীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে রাষ্ট্র জাগরণের লক্ষ্যে সকলে সম্মিলিতভাবে সংকল্প গ্রহণ করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজে রাষ্ট্রভক্তি, ঐক্য ও সচেতনতা আরও সুদৃঢ় হয়। স্থানীয় হিন্দু সম্মেলনের সদস্যদের মতে, বরাক ভ্যালিতে এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *