১৭ জানুয়ারি : দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারতের যাত্রা নিয়ে এখন মালদা রেলওয়ে ডিভিশনের নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা চরমে। সূত্রের খবর, এরই মধ্যে আবার রেলের কাছে সতর্কবার্তা এসেছে, বন্দে ভারতে পাথর ছুড়ে ‘হামলা’ হতে পারে। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছেন রেলকর্তারা। স্লিপার বন্দে ভারতের নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে মালদায় এসে পৌঁছেছে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ কোম্পানি আরপিএফ। মালদা থেকে কামাখ্যা অভিমুখে ট্রেনের যাত্রাপথে কুমেদপুর পর্যন্ত রেললাইনের দু’ধারে আরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হচ্ছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো নিজে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘যদি কেউ চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ে, তবে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে৷’
যদিও শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ খোলেননি রেলকর্তারা। তবে রেলের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন ও আরপিএফকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, একটি ই-মেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদার কিছু সমাজবিরোধী মালদা, জমিরঘাটা, খালতিপুর, চামাগ্রাম, নিউ ফরাক্কা, বল্লালপুর, ধুলিয়ান, বাসুদেবপুর এবং তিলডাঙ্গা স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনে পাথর ছোড়ার চেষ্টা করতে পারে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কালো পতাকা প্রদর্শনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্টেশন এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক অফিসার ও কর্মী মোতায়েন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম হাওড়া থেকে এনজেপিগামী বন্দে ভারতের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই যাত্রার কিছুদিন যেতে না যেতেই নতুন ট্রেনের উদ্দেশে ইট ছুড়ে বগির ক্ষতি করা হয়। যা নিয়ে সেই সময় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন বিজেপি ও তৃণমূল নেতারা। এরপর তদন্তে নেমে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর বন্দে ভারতে পাথর ছোড়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে নিয়ে আসে পূর্ব রেল। মালদা ডিভিশনের তরফে প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা একলব্য চক্রবর্তী একটি ভিডিও এবং একটি স্টিল ছবি প্রকাশ করেছিলেন সেই সময়। যে ছবিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল, কোনও এক নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে চার কিশোর। তারাই বন্দে ভারত লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। সেবার ঘটনাটি ঘটেছিল মালদা ডিভিশনের মধ্যে। আর তাই এবার স্লিপার বন্দে ভারতের প্রথম দিনের যাত্রা নিয়ে মালদা ডিভিশনের আধিকারিকরা কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



