রেজাউল করিম কোনও মশিহা নন, কংগ্রেস ব্যক্তি নির্ভর দল নয় : শাহাদাত আহমদ চৌধুরী

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জানুয়ারি : আমসুর প্রাক্তন সভাপতি রেজাউল করিমকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে মুখ খুললেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রেজাউল করিম কোনো মশিহা নন যে তিনি এসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেবেন। ১৪২ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোনো ব্যক্তি নির্ভর দল নয়; এই দল তার নিজস্ব আদর্শ, সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে চলেছে। চৌধুরী বলেন, কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু নেতা এসেছেন, আবার অনেকে দল ছেড়ে গিয়েছেন। কেউ কেউ ভুল বুঝে দল ত্যাগ করে পরে অনুশোচনা করে আবার কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন। কিন্তু ব্যক্তি বদলালেও কংগ্রেস তার আদর্শ থেকে কখনো সরে আসেনি।

রেজাউল করিম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে তিনি নিজেকে স্বঘোষিত সংখ্যালঘু নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও বাস্তবে তার কোনো শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিকভাবে তিনি একজন “কাগুজে বাঘ” বলেই প্রমাণিত হয়েছেন।শাহাদাত আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সবসময় সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়কে সমান সম্মান দিয়ে এসেছে। কংগ্রেস কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার দেয় না। দেশের সার্বিক স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যই কংগ্রেসের রাজনীতির মূল ভিত্তি। তাই কংগ্রেসে থেকে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সাম্প্রদায়িক মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কংগ্রেসে কোনো স্থান নেই।তার অভিযোগ, রেজাউল করিম ও তার মতো কিছু ব্যক্তি কংগ্রেসে থেকে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চেয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন উস্কানিমূলক ও বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়ে কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া যাবে। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব শুরু থেকেই তাদের অভিসন্ধি বুঝে ফেলেন।

চৌধুরী বলেন, কংগ্রেসে যোগদানের পরপরই রেজাউল করিম উজান অসম ও নিম্ন অসমকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, তা আসামে অশান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। এই মন্তব্যগুলো কংগ্রেসের ভিতর থেকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব উপলব্ধি করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই রেজাউল করিম বহিষ্কৃত হওয়ার আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেন।

তিনি আরও বলেন, অসম কংগ্রেসের ভিতরে কিছু বিজেপি এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে—এ বিষয়টি এখন আর গোপন নয়। নিলাম বাজারের সাম্প্রতিক ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। ওইদিন নিলাম বাজারে কংগ্রেসের একটি জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এআইসিসি পর্যবেক্ষক ও এআইসিসি সম্পাদক বিকাশ উপাধ্যায়সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সভাস্থল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে একটি রেস্টুরেন্টে টিফিন সেরে ফেরার সময়, কিছু দুষ্কৃতিকারী করিমগঞ্জ জেলা পরিষদের রাজারটিলা-ওমরপুর কংগ্রেস সদস্য জিল্লুর নুর চৌধুরীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। শাহাদাত চৌধুরীর দাবি, ওই ঘটনার মাধ্যমে কংগ্রেসকে জনসমক্ষে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ এবং করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থের দৃঢ় নেতৃত্বে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড়সড় অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত দুষ্কৃতিকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি এবং প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কার প্ররোচনায় এই হামলা সংঘটিত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার। সবশেষে শাহাদাত আহমদ চৌধুরী বলেন, এই সমস্ত ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে রেজাউল করিমদের মতো সুবিধাবাদী ও সন্দেহজনক রাজনৈতিক চরিত্রদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস আরও সতর্ক হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যক্তির দল নয় কংগ্রেস দেশের মানুষের দল এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *