বরাক তরঙ্গ, ১৬ জানুয়ারি : রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বরিষ্ঠ স্বয়ংসেবক প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থ এবং যোগেন্দ্র সিনহার বিয়োগে বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের প্রেক্ষাগৃহে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সংঘ পরিবারসহ সমগ্র সমাজ মর্মাহত এই অনুষ্ঠানে বরিষ্ঠ স্বয়ংসেবক, সমাজসেবক, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে প্রয়াতাত্মাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ১৯৩১ সালে বর্তমান বাংলাদেশের সিলেট জেলার কামারখালে জন্মগ্রহণকারী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। ১৯৫০ সালে আরএসএস-এ যোগদান করে আজীবন নিষ্ঠার সঙ্গে স্বয়ংসেবকের ভূমিকা পালন করেন।
বরিষ্ঠ স্বয়ংসেবক শশাংক ধর স্মৃতিচারণে বলেন, “কবীন্দ্রদা শাখায় প্রতিদিন যেতেন, কমপক্ষে ৪-৫টি ঘরে সম্পর্ক গড়ে ফিরতেন না। তিনি বলতেন, যে সংঘের বিরোধিতা করে, সে-ই পরে ভাল স্বয়ংসেবক হয়।” অধ্যাপকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি সারা আসামে গড়ে তোলেন এবং শিলচর থেকে সাংসদ ও মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রাক্তন প্রান্ত কার্যবাহ ড. শঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ১৯৬৩ সালে বরাক উপত্যকায় জেলা কার্যবাহ ছিলেন তিনি। বরিষ্ঠ প্রচারক শশিকান্ত চৌথাইওয়ালে বলেন, “কবীন্দ্রদা বরাকের সংঘের রূপকার ছিলেন—পরিশ্রমী, মৃদুভাষী ও নিষ্ঠাবান।” প্রাক্তন প্রান্ত কার্যবাহ ক্ষৌণীষ চন্দ্র চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, প্রচারক বসন্ত ফড়নিসের হাত ধরে সংঘে যোগ দেন এবং পরে নিজেই এ অঞ্চলের প্রচারক হন।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল বলেন, “প্রচারক হিসেবে স্থানীয় হয়ে ওঠার উপদেশ দিয়েছিলেন।” প্রান্ত প্রচারিকা সুপর্ণা দে বলেন, তিনি গৃহস্থ সন্ন্যাসী ছিলেন। প্রান্ত প্রচারক গৌরাঙ্গ রায় ও গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায়ও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।মাছুঘাটের যোগেন্দ্র সিনহা সংঘের প্রান্ত বৌদ্ধিক প্রমুখ ও বিভাগ সংঘচালক ছিলেন। বাগান অঞ্চল ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজে সংঘ বিস্তারে অবদান রাখেন। প্রান্ত সংঘচালক জ্যোৎস্নাময় চক্রবর্তী বলেন, “আসাম সরকারের সাহিত্যিক পেনশনপ্রাপ্ত লেখক ছিলেন, রাতে উঠে লিখতেন।” শশিকান্ত চৌথাইওয়ালে বলেন, “নিষ্ঠাবান, বহুভাষিক ও লেখক—পরিবারে সংঘের উদাহরণ।”অনুষ্ঠানে ২ মিনিট নীরবতা ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আত্মার শান্তি ও পরিবারের দুঃখলাঘব কামনা করা হয়। এটি প্রয়াতদের দেখানো পথে সংকল্পের অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে।



