ধামাইল নৃত্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের : কৌশিক রায়

লক্ষীপুর সমজেলা ভিত্তিক ধামাইল উৎসবে ব্যাপক সাড়া______

বরাক তরঙ্গ, ১১ জানুয়ারি : লক্ষীপুর সমজেলা ভিত্তিক সমবেত ধামাইল নৃত্য ও ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতা রবিবার ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপণার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো। বরাক উপত্যকার লোক সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক সংগঠন সম্মিলিত লোক পরিষদ শিলচর-র উদ্যোগে ও সরগম শিল্পী সংঘ ফুলেরতলের সহযোগিতায় ফুলেরতল মাল্টিপার্পাস হলে আয়োজিত ধামাইল উৎসবে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। তাছাড়াও পরিবেশিত হয় দু’টি প্রদর্শনী ধামাইল নৃত্য, পরিবেশনায় ছিলেন মিতালিজ গ্রুপ হাইলাকান্দি ও আয়োজক সম্মিলিত লোক পরিষদের শিল্পীরা। এছাড়াও সংস্থার সমবেত সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এদিনের মঞ্চে। 

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, অসমের বিহু ও ঝুমুর নৃত্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে বর্তমান অসম সরকার। ঠিক একই রকমভাবে ধামাইল নৃত্যকেও বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অসম সরকারের। লক্ষীপুর সমজেলা ভিত্তিক ধামাইল নৃত্য ও ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতায় মূখ্য অতিথির ভাষণে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, খুব শীঘ্রই অসমে বৃহত্তর আয়োজনে ধামাইল নৃত্য উৎসব আয়োজন করবে অসম সরকার। এর জন্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। লক্ষীপুরে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আয়োজক সম্মিলিত লোক পরিষদ শিলচর ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য সরগম শিল্পী সংঘ ফুলেরতলের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি লক্ষীপুর সমজেলার পুরপতি মৃণালকান্তি দাস।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য সকলকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত লোক পরিষদ-এর সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায়। তিনি বলেন, ধামাইল নৃত্যের ঐতিহ্যগত সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসার করাই সম্মিলিত লোক পরিষদের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ধামাইল নৃত্য শিল্পীদের মধ্যে এই ব্যাপারে জন চেতনা গড়ে তোলার জন্যই এধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন ধামাইল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষে শহরের বাইরে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন মন্ত্রী কৌশিক রাইয়ের বিশেষ আগ্রহ এবং উৎসাহে এবছর আমরা লক্ষীপুরে এই অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। অনুপ বাবু বলেন এবার লক্ষীপুরে করা হয়েছে আগামীতে বরাকের অন্য অঞ্চলেও এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সম্মিলিত লোক পরিষদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী কৌশিক রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজক সংস্থার সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায়।

উল্লেখ্য, ধামাইল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলি হচ্ছে দিঘর ফুলেরতল রাধারানি ধামাইল গ্রুপ, চিরিপুল ধামাইল গ্রুপ, শ্রীদুর্গা ধামাইল সংঘ গোসাইনগর, ঝুমা চক্রবর্তী এণ্ড গ্রুপ ধামাইল দল জিরিঘাট, দিয়া ধামাইল টিম দিলখুশ, নৃত্যাঙ্গণ ধামাইল  সংস্থা, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন লক্ষীপুর আঞ্চলিক কমিটি ও প্রাণবন্ধন ধামাইল গ্রুপ চিরিপুল।

এদিন সমবেত ধামাইল নৃত্য প্রতিযোগিতায় দলগত ভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নৃত্যাঙ্গণ ধামাইল সংস্থা, দ্বিতীয় হয়েছে শ্রীদূর্গা ধামাইল সংঘ ও বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন লক্ষীপুর আঞ্চলিক কমিটি তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। এতে প্রথম স্থানাধিকারী দলকে পুরস্কার হিসেবে ঋষিকেশ শেফালিকণা স্মৃতি স্মারক, শংসাপত্র ও নগদ পাঁচ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং পুরস্কার স্পন্সর করেন ড. অনুপকুমার রায়। দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দলকে স্বর্গীয় সবিতা চৌধুরী স্মৃতি স্মারক, শংসাপত্র ও নগদ তিন হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার স্পন্সর করেন সুমিতা চৌধুরী। এছাড়াও দলগত ভাবে তৃতীয় স্থানাধিকারীকে স্বর্গীয় সমরেন্দ্র পাল স্মৃতি স্মারক, শংসাপত্র ও নগদ দুই হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়, পুরস্কার স্পন্সর করেন শিল্পজিৎ পাল।

এদিকে ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতায় ঈশিতা রাউত প্রথম, জয়া তালুকদার দ্বিতীয় ও রুমা দাস তৃতীয় স্থান দখল করে। এতে প্রথম পুরস্কার হিসাবে ‘মালতিরানি দেব স্মৃতি স্মারক’, শংসাপত্র ও নগদ তিন হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়, পুরস্কার স্পন্সর করেন শেখররঞ্জন দেব। ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ‘সমরেন্দ্র পাল স্মৃতি স্মারক’, শংসাপত্র ও নগদ দুই হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়, পুরস্কার স্পন্সর করেন অভ্রজিৎ পাল । এদিকে ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান দখলকারীকে ‘মৌসুমী দেব স্মৃতি স্মারক’ পুরস্কার সহ শংসাপত্র ও নগদ এক হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, পুরস্কার স্পন্সর করেন ডঃ সূর্য্যসেন দেব। 

এদিনের সমবেত ধামাইল নৃত্য ও ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতার বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন হাইলাকান্দি সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মিতালী চক্রবর্তী ও শিলচর শ্রুতিনন্দন সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুমিতা চৌধুরী। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপ্লব বিশ্বাস। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন সরগম শিল্পী সংঘের সভাপতি সিয়ারাম যাদব। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গলধ্বণি সাহনাই বাজিয়ে শোনান উস্তাদ শুক্কুর আলী মজুমদার। যন্ত্র সংগীতে ছিলেন হার্মোনিয়ামে মনোরঞ্জন মালাকার, দোতারায় শ্রীবাস সূত্রধর ও বাংলাঢোলে চন্দ্রশেখর দাস। সেই সঙ্গে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করেন মূখ্য অতিথি আসাম সরকারের মন্ত্রী কৌশিক রায়। পরে মূখ্য অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বরণ করেন আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তারা। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শিল্পজিৎ পাল, রাণাজিৎ দাস প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন মালাকার, সংগীত সংযোজক বিধান লস্কর, প্রচার সম্পাদক কমলেশ দাশ  সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী, সহ সম্পাদক সৌমিক পাল, রাজশ্রী নাথ, ঝুমা বর্ধন, হীরা শুক্লবৈদ্য, বাবলু শুক্লবৈদ্য, নিবেদিতা গুপ্ত, রাজশ্রী চক্রবর্তী, সাগর দাস, পুলক দাস প্রমুখ। সব শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে । রবিবার শিলচরে এক প্রেস বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছেন আয়োজক সম্মিলিত লোক পরিষদের প্রচার সম্পাদক কমলেশ দাশ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *