বরাক তরঙ্গ, ৮ জানুয়ারি: রাতাবাড়ি থানা এলাকার নিভিয়া বাজার সংলগ্ন বড়বাড়ি গ্রামে গৃহবধূ পূজা মিশ্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিভিয়া পুলিশ ওয়াচ পোস্টের ইনচার্জ ও তদন্তকারী অফিসার এসআই কল্যাণ বর্মণের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে বুধবার মৃতার স্বামী সন্তোষ মিশ্র ও ননদ গৌরীবালা মিশ্রকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে পেশ করা হলে তাদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ধরে পূজা মিশ্রের উপর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চলছিল। ঘটনার আগের রাতে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে তাঁকে তাড়া করে মারধরের বিষয়ে স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই রাতে বাড়ির আশপাশে অভিযুক্তদের চলাফেরার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের দেহে পাওয়া একাধিক আঘাতের চিহ্ন আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর আগে কাছাড় জেলার মনিয়ারখাল চা-বাগানের বাসিন্দা পূজা মিশ্রের সঙ্গে রাতাবাড়ি থানার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ মিশ্রের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দেওয়ায় তিনি পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। গত ১ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে পূজা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা তাঁর দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে বাড়িতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং গভীর রাত পর্যন্ত চিৎকার ও ঝগড়ার শব্দ শোনা যায়।
মৃতের ভাই পবন মিশ্রের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিভিয়া পুলিশ ফাঁড়ি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরে রাতাবাড়ি থানায় বোনের স্বামী ও ননদসহ শ্বশুরবাড়ির মোট সাতজনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এফআইআরে নাম থাকা বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন, মোবাইল কল ডিটেইলসসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



