বরাক তরঙ্গ, ৭ জানুয়ারি : প্রবীণ নেতা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রখর বুদ্ধিজীবী ও নিবেদিতপ্রাণ কার্যকর্তা—নিজেই এক প্রতিষ্ঠান। এই অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি স্থাপন ও অসমে দলটিকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
শিলচরের অলিগলি থেকে সংসদের করিডর পর্যন্ত, প্রচারক জীবন থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি পর্যায়ে তিনি মানুষের কথা ও মানুষের সমস্যাকেই সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন মঞ্চে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
বলেন, “আমাদের মতো কার্যকর্তাদের কাছে তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক অভিভাবক, এক পথপ্রদর্শক এবং এক ভরসার নাম। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে রাজনীতি মানে মূল্যবোধ, সরলতা, সেবা এবং পরিবারের মতো একে অপরের যত্ন নেওয়া।“
তাঁর উত্তরাধিকার কেবল পদ বা পদমর্যাদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত ‘সেবা ভাব’-ই তাঁর প্রকৃত পরিচয়। বাস্তুচ্যুত হিন্দু শরণার্থীদের সহায়তা থেকে শুরু করে অসমের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর জীবন ছিল সম্পূর্ণভাবে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত।
এই প্রবাদপ্রতিম নেতার প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা সস্নেহে স্মরণ করে এবং বছরের পর বছর তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলি চিরদিন মনে রাখবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আজ যখন অসম তার এক জননেতাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ, তখন তাঁদের পক্ষ থেকে তিনি কণাদ পুরকায়স্থ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।



