বরাক ব্রাহ্মণ পরিষদের ‘ব্রহ্মবাণী’ পঞ্চম সংস্করণ প্রকাশ

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩ জানুয়ারি : বরাক ব্রাহ্মণ পরিষদ শনিবার শিলচরের শ্রীশ্রী গোপাল জিউ আখড়া প্রাঙ্গণে তাদের বার্ষিক স্মারক ‘ব্রহ্মবাণী’-র পঞ্চম সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এই প্রকাশনার মাধ্যমে সংগঠনটি বৌদ্ধিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক বছরের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের সারাংশ তুলে ধরল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ কানাদ পুরকায়স্থ উপস্থিত হন। তিনি আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে সমাজ গঠনে ব্রাহ্মণদের অগ্রণী ভূমিকা থাকলেও বর্তমান অবস্থান সন্তোষজনক নয়। সমাজের পরিচয় গভীর সংকটে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং পুনর্গঠন ও ঐক্যবদ্ধতার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

পুরকায়স্থ আরও বলেন, আজকের সামাজিক বাস্তবতা এক শতাব্দী আগের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জনজীবনে জ্ঞানের প্রভাব কমে যাওয়া এবং রাজনীতি ও জ্ঞানের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পূর্বের জনপ্রতিনিধিরা গভীর শিক্ষিত ও জ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন, কিন্তু আজ তা কমে গেছে। তিনি‌ আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান এবং বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে জ্ঞানের দায়িত্বশীল প্রয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন। ব্রাহ্মণ সমাজকে পরিচয় রক্ষা করে আবার দিশা দেখানোর আহ্বানও তিনি জানান।আসামের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সনাতন ধর্মের ভিত্তি মজবুত করার প্রচেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে তিনি পরিষদের জন্য এক থেকে দেড় কাঠা সরকারি জমি দিয়ে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনে সহায়তার আশ্বাস দেন। উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানান।

শিক্ষাবিদ ড. সুকুময় ভট্টাচার্য, লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য, প্রাক্তন আইএএস ড. বিমলেন্দু ভট্টাচার্য, আশিস চক্রবর্তী এবং মানস ভট্টাচার্য এই প্রকাশনাকে বৌদ্ধিক আলোচনা ও সামষ্টিক স্মৃতি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে অভিহিত করেন। তাঁদের মতে, ‘ব্রহ্মবাণী’ সংলাপ ও ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যা সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

পরিষদের সভাপতি অতনু ভট্টাচার্য জানান, এবারের সংস্করণে বরাক উপত্যকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ব্যক্তিত্বের চিন্তাশীল লেখা ও গবেষণামূলক অবদান স্থান পেয়েছে। সম্পাদক ড. দেবযানী ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহিত প্রবন্ধের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে তিনি একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতও পরিবেশন করেন।পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কঙ্কন ভট্টাচার্য, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক ভট্টাচার্য, সাংস্কৃতিক সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, মৃদুল ভট্টাচার্য, উপদেষ্টা রাহুল ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী, বিভাসরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং লেখিকা অমৃতা ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এই প্রকাশনাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে পরিষদের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *